মৃত্যুর অর্ধযুগে সুবীর নন্দীর গান মুক্তি

২০২০ সালে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রয়াত হয়েছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত সংগীত শিল্পী সুবীর নন্দী। তাঁর অনন্য কণ্ঠশৈলী এখনও শ্রোতাদের মনে জেগে আছে। মৃত্যুর অর্ধযুগ পেরিয়ে গেলেও সুবীর নন্দীর কিছু গান আজও অপ্রকাশিত রয়ে গেছে। মৃত্যুর আগে তিনি সংগীত পরিচালক তানভীর তারেকের সুরে মোট ১১টি গানে কণ্ঠ দিয়েছিলেন। এই গানগুলো থেকে ধারাবাহিকভাবে নতুন গান প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি প্রকাশিত হচ্ছে তার নতুন গান ‘আমার আয়ু নিয়ে বাঁচো’, যা লিখেছেন গীতিকবি জাহিদ আকবর। গানটি স্যাড–রোমান্টিক ধাঁচের এবং তা ‘সাউন্ডস অব তানভীর’ অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পাচ্ছে। এছাড়া অ্যাপল মিউজিক, স্পটিফাইসহ প্রায় ৫০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে গানটি শ্রোতাদের সঙ্গে পরিচিত হবে।

গানের সুরকার ও সংগীত পরিচালক তানভীর তারেক বলেন,

“সুবীরদার সঙ্গে এই গানগুলোর প্রকল্প আমার জীবনের অমূল্য স্মৃতির মতো। প্রতিটি গানেই অ্যাকুয়াস্টিক ইনস্ট্রুমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। ‘আমার আয়ু নিয়ে বাঁচো’ গানটিতে সেতার বাজিয়েছেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী রাহুল মুখোপাধ্যায়। সুবীরদার কণ্ঠের মেলোডি আজও শ্রোতাদের হৃদয়কে স্পর্শ করে।”

গীতিকবি জাহিদ আকবর বলেন,

“তানভীরের সুরে কাজ করতে সবসময়ই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। সুবীরদার কণ্ঠে আমার গানটি শুনে সত্যিই মুগ্ধ হয়েছি। আশা করি শ্রোতারা বারবার এ মুগ্ধতা উপভোগ করবেন।”

গানটির লিরিক ভিডিও প্রথমে প্রকাশিত হবে। পরে থিমনির্ভর একটি মিউজিক ভিডিও আলাদা দৃশ্যধারণ করে মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

গানের রেকর্ডিং ও মিক্স-মাস্টারিং নিয়ে বিস্তারিত নিচের টেবিলে দেওয়া হলো:

বিভাগস্থানবিশদ তথ্য
ভোকাল রেকর্ডিংঢাকা, কোলাহল স্টুডিওসুবীর নন্দীর কণ্ঠ ধারণ
ব্যাকগ্রাউন্ড ইনস্ট্রুমেন্টকলকাতা, ভাইব্রেশন স্টুডিওসেতার, অন্যান্য অ্যাকুয়াস্টিক বাদ্যযন্ত্র
মিক্সিং ও মাস্টারিংলাসভেগাস, টিএফপি স্টুডিওআন্তর্জাতিক মানের আউটপুট নিশ্চিত

সাংগীতিক ভোকাল ও সুরের মিলন, পাশাপাশি অ্যাকুয়াস্টিক বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার গানটিকে আরও শ্রুতিমধুর করে তুলেছে। বিশেষ করে রোমান্টিক ধাঁচের এই গানটি আজকের ডিজিটাল যুগের মেলোডি প্রেমীদের জন্য নিখুঁত।

এভাবে সুবীর নন্দীর অপ্রকাশিত কণ্ঠের গানগুলি মুক্তি পাওয়া কেবল একটি স্মৃতির পুনরুজ্জীবন নয়, বরং সংগীতের মাধ্যমে তার অবিস্মরণীয় প্রতিভার ধারা আগামীর জন্য সংরক্ষণ করছে।