ফিজকে ঘিরে কালান্দার্সের উচ্ছ্বাস

পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) আসন্ন আসরকে সামনে রেখে বড় চমক দেখিয়েছে লাহোর কালান্দার্স। প্লেয়ার্স ড্রাফটের আগেই সরাসরি চুক্তিতে বাংলাদেশ জাতীয় দলের বাঁহাতি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে দলে ভিড়িয়েছে দুইবারের এই চ্যাম্পিয়ন ফ্র্যাঞ্চাইজি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরদিনই এক ভিডিও বার্তায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন দলটির মালিক সামিন রানা। সেখানে তিনি বলেন, “বিশ্ব ক্রিকেটে মোস্তাফিজ একটি বড় নাম। তাকে দলে পাওয়া আমাদের জন্য সম্মানের।” আবেগঘন বার্তার শেষে তিনি সরাসরি বলেন, “ফিজ, আমি তোমাকে ভালোবাসি।”

লাহোর কালান্দার্সের সঙ্গে মোস্তাফিজের চুক্তির মূল্য ৬ কোটি ৪৪ লাখ পাকিস্তানি রুপি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২ কোটি ৮১ লাখ টাকার বেশি। পিএসএলের প্রেক্ষাপটে এটি উল্লেখযোগ্য অঙ্ক, বিশেষ করে একজন বিদেশি পেসারের ক্ষেত্রে। দলটি আশা করছে, নতুন মৌসুমে মিডল ও ডেথ ওভারে মোস্তাফিজের বৈচিত্র্যময় কাটার ও নিখুঁত ইয়র্কার তাদের বোলিং আক্রমণকে আরও ধারালো করবে।

নিচে মোস্তাফিজের চুক্তি ও প্রেক্ষাপটের একটি সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো:

বিষয়তথ্য
খেলোয়াড়মোস্তাফিজুর রহমান
দললাহোর কালান্দার্স
লিগপাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল)
চুক্তির ধরনসরাসরি চুক্তি (ড্রাফটের আগে)
চুক্তিমূল্য৬ কোটি ৪৪ লাখ পাকিস্তানি রুপি
বাংলাদেশি মুদ্রায় মূল্যপ্রায় ২.৮১ কোটি টাকা
বিশেষ ভূমিকামিডল ও ডেথ ওভার স্পেশালিস্ট

সামিন রানা স্মরণ করিয়ে দেন, পিএসএলের সূচনালগ্ন থেকেই মোস্তাফিজের সঙ্গে কালান্দার্সের সম্পর্ক। প্রায় এক দশক আগে লিগের প্রথম আসরে গোল্ড ক্যাটাগরিতে তাকে দলে নেওয়া হয়েছিল। তবে জাতীয় দলের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) জটিলতায় সে সময় তিনি খেলতে পারেননি। পরে তিনি লাহোরের হয়ে মাঠে নামেন এবং তার পারফরম্যান্স দলটির ভক্তদের মুগ্ধ করে। সেই অতীত স্মৃতির সূত্র ধরেই কালান্দার্স কর্তৃপক্ষ মোস্তাফিজের দলে ফেরা’কে “পরিবারে প্রত্যাবর্তন” হিসেবে বর্ণনা করেছে।

নতুন মৌসুমে মোস্তাফিজ জুটি বাঁধবেন পাকিস্তানের তারকা পেসার শাহিন শাহ আফ্রিদির সঙ্গে। বাঁহাতি এই দুই গতিময় বোলারের সমন্বয় প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। সামিন রানা বলেন, “শাহিন ও ফিজের জুটি দেখার জন্য আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছি। বিশেষ করে মিডল ও ডেথ ওভারে ফিজের দক্ষতা অসাধারণ।”

বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের প্রসঙ্গে সামিনের মন্তব্য ছিল প্রশংসায় ভরা। মেহেদী হাসান মিরাজ, সাকিব আল হাসান ও রিশাদ হোসেনের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা শুধু দক্ষ নন, ব্যক্তি হিসেবেও অসাধারণ। তারা দলকে নিজের পরিচয় ও ব্র্যান্ড হিসেবে বিবেচনা করে মাঠে সর্বোচ্চটা উজাড় করে দেন।

সব মিলিয়ে মোস্তাফিজকে ঘিরে লাহোর কালান্দার্স শিবিরে তৈরি হয়েছে নতুন আশাবাদ। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি অভিজ্ঞতা, বৈচিত্র্যময় বোলিং ও বড় ম্যাচের চাপ সামলানোর দক্ষতা—এই তিন গুণে মোস্তাফিজ নতুন মৌসুমে কালান্দার্সের শিরোপা লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হয়ে উঠবেন বলেই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।