একুশে পদকপ্রাপ্তিতে ওয়ারফেইজের লিডারের প্রতিক্রিয়া

বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের ইতিহাসে এক বিশেষ দিন হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকছে ২০২৬ সাল। দীর্ঘদিন ধরে বাংলা হেভি মেটাল ও হার্ডরক ধারার নেতৃত্বে থাকা ব্যান্ড ওয়ারফেইজ এই বছর প্রথমবারের মতো একুশে পদকে ভূষিত হতে যাচ্ছে। এটি বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার এক অমুল্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ওয়ারফেইজের লিডার ও ড্রামার শেখ মনিরুল আলম টিপু সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “সত্যিই অবিশ্বাস্য! এমন কিছু ঘটতে যাচ্ছে তা আগে কিছুই জানতাম না। এটি শুধু ব্যান্ডের নয়, বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের জন্যও একটি বড় অর্জন। এই স্বীকৃতি আমরা সবাই—পুরানো ও বর্তমান সদস্য, ভক্ত-শ্রোতা এবং যেসব সাংবাদিক আমাদের সংগীতকে মানুষের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন—সবার জন্য ভাগাভাগি করতে চাই।”

বাংলাদেশে হেভি মেটাল ব্যান্ডের সূচনা হয় ওয়েভস ব্যান্ডের মাধ্যমে। তবে ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে হেভি মেটাল ধারার জোয়ার আসে চারটি ব্যান্ডের মাধ্যমে: ওয়ারফেইজ, রকস্ট্রাটা, ইন ঢাকা, এসেস। তবে আজকের দিনে নিয়মিত দেশ-বিদেশে কনসার্ট করে চলা একমাত্র ব্যান্ড হলো ওয়ারফেইজ। তারা শুধু বাংলা হেভি মেটালের পথপ্রদর্শক নয়, বরং উপমহাদেশে এই ধারার সংগীতের জনপ্রিয়তাও বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

ওয়ারফেইজের জন্ম ১৯৮৪ সালে। ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যরা ছিলেন কমল, মীর, হেলাল, নাইমুল ও বাপ্পি। তবে ক্ল্যাসিক লাইন-আপ হিসেবে আজও জনপ্রিয় কমল, টিপু, সানজয়, বাবনা ও রাসেল।

১৯৯১ সালে ওয়ারফেইজের প্রথম অ্যালবাম প্রকাশিত হয় এবং তা সাফল্যের সাথে বাজারে দাপট দেখায়। এর পর পরের অ্যালবামগুলো হলো:

অ্যালবাম নামপ্রকাশের বছরমন্তব্য
অবাক ভালোবসা১৯৯১ব্যান্ডের প্রথম বড় হিট
জীবনধারা১৯৯৩হেভি মেটালে নতুন দৃষ্টিকোণ
অসামাজিক১৯৯৫সামাজিক বার্তা ও শক্তিশালী রিফ
আলো১৯৯৭মেলোডিক হেভি মেটালের উদাহরণ
মহারাজ২০০০ব্যান্ডের সাংগঠনিক শক্তি প্রকাশ
পথচলা২০০৩শ্রোতাদের মধ্যে জনপ্রিয়
সত্য২০০৬ব্যান্ডের ক্লাসিক কনট্রিবিউশন

ওয়ারফেইজের বিভিন্ন লাইনআপে খ্যাতিমান শিল্পীরা কাজ করেছেন, যেমন রেশাদ, ফুয়াদ ইবনে রাব্বি, রোমেল আলী, বালাম, বেজবাবা সুমন, ইকবাল আসিফ জুয়েল, সাজ্জাদ, মিজান, বীজু ও অনি।

বর্তমান লাইনআপে আছেন কমল, টিপু, শামস, রজার, পলাশ, সামির ও সৌমেন। এদের ধারাবাহিকতা, সৃজনশীলতা এবং ভক্ত-সমর্থনের কারণে আজও ওয়ারফেইজ বাংলা হেভি মেটালের অমর প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।

বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতপ্রেমীরা এই স্বীকৃতিকে শুধু একটি ব্যান্ডের অর্জন হিসেবে নয়, বরং দেশের সঙ্গীতের সামগ্রিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখছেন।