বিজ্ঞাপন থেকে চরকির ‘আঁতকা’: নবাগত পারুর জয়যাত্রা

শৈল্পিক শাড়ি আর স্নিগ্ধ হাসির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করতে ভালোবাসতেন এক তরুণী। সাধারণ সেই শখই যে তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেবে, তা হয়তো তিনি নিজেও ভাবেননি। ইনস্টাগ্রামের স্থিরচিত্র থেকে শুরু করে ওটিটি প্ল্যাটফর্মের পর্দা—খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন হালের আলোচিত অভিনেত্রী পারু। বিজ্ঞাপনচিত্রের মডেলিং দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে তিনি অভিনয় জগতে এক উজ্জ্বল সম্ভাবনা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।

যেভাবে শুরু: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে স্টুডিও

পারুর বিনোদন জগতে আসার গল্পটি অনেকটা রূপকথার মতো। ২০২২ সালে শাড়ি পরা কিছু ছবির সূত্র ধরে একজন বিজ্ঞাপন নির্মাতার নজরে আসেন তিনি। অডিশন আর আলাপচারিতার পর সরাসরি ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর প্রস্তাব। ভয়হীন চিত্তে জীবনের প্রথম বিজ্ঞাপনচিত্রের কাজ সম্পন্ন করেন তিনি। প্রথম টেক-এই শট ‘ওকে’ করে নির্মাতাকে চমকে দিয়েছিলেন এই নবাগতা। ২০২৩ সালে সেই বিজ্ঞাপনটি প্রচারের পর ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়। তবে এরপর প্রায় আট মাস নিজেকে পর্দার আড়ালে রেখেছিলেন তিনি। ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তায় থাকলেও নির্মাতা আরাফাত মহসীন তাঁকে নিয়ে দ্বিতীয় বিজ্ঞাপন নির্মাণ করে সেই দোলাচল দূর করে দেন। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি; একে একে প্রায় ২০টি বিজ্ঞাপনে কাজ করে তিনি পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন।

ওটিটি অভিষেক ও ‘মুনিয়া’ উন্মাদনা

বিজ্ঞাপনের পর এবার অভিনয়ের বড় ক্যানভাসে পা রেখেছেন পারু। গত ১৫ জানুয়ারি জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ‘চরকি’-তে মুক্তি পেয়েছে অরিজিনাল সিরিজ ‘আঁতকা’। এখানে ‘মুনিয়া’ চরিত্রে তাঁর সাবলীল অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। মুনিয়া চরিত্রটি মূলত একটি বনেদি পরিবারের সাধারণ মেয়ের জীবন, যার গভীরে রয়েছে অনেক না-বলা কথা ও স্বপ্নের দ্বন্দ্ব। পারুর ভাষ্যমতে, চিত্রনাট্য পড়ার সময়ই তিনি মুনিয়া চরিত্রের সঙ্গে নিজের মিল খুঁজে পেয়েছিলেন। বিশেষ করে বাস্তব জীবনেও পরিবারের ছোট মেয়ে হওয়ায় চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলা তাঁর জন্য সহজ ও আনন্দদায়ক ছিল।

নাটকের সাফল্য ও আগামীর সম্ভাবনা

সিরিজের শুটিংয়ের সূত্র ধরে পরিচিত হন সহশিল্পী আরশ খান ও সুনেরাহ্ বিনতে কামালের সঙ্গে। সেই পরিচয়ের সূত্রেই তিনি আরশ খানের বিপরীতে ‘প্রেম আমার’ নাটকে অভিনয় করেন। নাটকটি ইউটিউবে প্রকাশের মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে ৯৫ লক্ষাধিক বার দেখা হয়েছে, যা একজন নবাগত অভিনেত্রীর জন্য বিশাল এক মাইলফলক। বর্তমানে তাঁর অভিনীত আরও চারটি নাটক মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে।

এক নজরে পারুর ক্যারিয়ারের মাইলফলক

পারুর পেশাদার জীবনের সংক্ষিপ্ত রূপরেখা নিচে টেবিলের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:

বিষয়বিবরণ
জন্ম ও বেড়ে ওঠামিরপুর, ঢাকা।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ (আইইউবি)।
প্রথম কাজএকটি জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের বিজ্ঞাপনচিত্র (২০২৩)।
ওটিটি অভিষেকচরকি অরিজিনাল সিরিজ ‘আঁতকা’ (২০২৬)।
আলোচিত চরিত্রমুনিয়া (আঁতকা)।
জনপ্রিয় নাটক‘প্রেম আমার’ (আরশ খানের বিপরীতে)।
পছন্দের অভিনেতাশাহরুখ খান, চঞ্চল চৌধুরী ও আফরান নিশো।

স্বপ্নের পথে পরিবারের সমর্থন

অভিনয়ের স্বপ্নটি পারু লালন করতেন ছোটবেলা থেকেই। পারিবারিকভাবে সিনেমা দেখার চর্চা তাঁর চঞ্চল মনের ভেতরে অভিনয়ের বীজ বুনে দিয়েছিল। এই যাত্রায় তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তির উৎস তাঁর মা। শুটিংয়ের ব্যস্ততায় ভোরবেলা বাড়ি ফিরলেও মা তাঁর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন। মিরপুরে বেড়ে ওঠা এই তরুণী বর্তমানে পড়াশোনা করছেন ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশে (আইইউবি)। শিক্ষা ও অভিনয়ের মধ্যে চমৎকার ভারসাম্য বজায় রেখে তিনি সামনে এগিয়ে যেতে চান।

পারু মনে করেন, অভিনয় কেবল খ্যাতি পাওয়ার মাধ্যম নয়, বরং এটি একটি শিল্প যা দিয়ে সাধারণ মানুষের অনুভূতির প্রতিনিধিত্ব করা যায়। শাহরুখ খান বা চঞ্চল চৌধুরীর মতো লিজেন্ডারি অভিনেতাদের কাজ অনুসরণ করে তিনি নিজেকে একজন জাত অভিনেত্রী হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন।