ড্রাইভিং লাইসেন্সে ৬০ ঘণ্টার বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ

সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস, যানবাহনে শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং শব্দ ও বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্য নিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানের আগে চালকদের জন্য ৬০ ঘণ্টার বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ চালুর ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এটি নতুন যুগের বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ হিসেবে জাতীয় পর্যায়ে চালু করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত বিআরটিসি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প (৩য় সংশোধিত)’-এর আওতায় পেশাজীবী পরিবহন চালক ও শ্রমিকদের জন্য প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা দেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু, বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, “প্রতিবছর দেশের সড়কে মৃত্যুর সংখ্যা ভয়াবহভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সড়ক দুর্ঘটনায় মানুষের মৃত্যু এক ব্যক্তির জীবনের সবচেয়ে বড় ক্ষতি। সরকার ইতোমধ্যেই বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে, তবে তা কার্যকর করতে হলে চালকদের দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধি অপরিহার্য।”

তিনি আরও বলেন, “বর্তমান ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানের পদ্ধতি দীর্ঘদিন ধরে জটিল ও অকার্যকর। নতুন বিধিমালার আওতায় চালকদের জন্য ৬০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণ চালু করা হচ্ছে। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গাড়ি চালানোর দক্ষতা যাচাইয়ের পাশাপাশি শারীরিক সক্ষমতা, দৃষ্টিশক্তি এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে, যাতে শুধু যোগ্য চালকরা লাইসেন্স পান।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, “দেশের দীর্ঘ ৫৪ বছরের বাস্তবতায় আমরা কার্যকরভাবে খুব কম কাজই করতে পেরেছি। এই উদ্যোগ প্রথমবারের মতো বাস্তবভিত্তিক ও অংশীদারিত্বমূলক উদ্যোগ হিসেবে গ্রহণ করা হলো। সড়কে হর্নের অতিরিক্ত ব্যবহার, শব্দদূষণ এবং পরিবেশ দূষণ কমাতে পুলিশ ও ট্রাফিক সার্জেন্টদেরও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।”

শেখ মইনউদ্দিন, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়), বলেন, “৬০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণে চালকদের শেখানো হবে—কখন হর্ন ব্যবহার করতে হবে, নিরাপদভাবে লেন পরিবর্তন, ট্রাফিক সংকেত অনুসরণ এবং সড়ক আইন মেনে চলা। এটি বাংলাদেশের পরিবহন খাতকে শৃঙ্খলাবদ্ধ ও নিরাপদ করার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।”

প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্যগুলো সংক্ষেপে নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো:

বিষয়বিবরণ
প্রশিক্ষণ সময়কাল৬০ ঘণ্টা
লক্ষ্যসড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস, শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, শব্দ ও বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ
অন্তর্ভুক্ত বিষয়গাড়ি চালানোর দক্ষতা, শারীরিক সক্ষমতা, দৃষ্টিশক্তি পরীক্ষা, ট্রাফিক আইন, নিরাপদ লেন পরিবর্তন, হর্ন ব্যবহার
প্রশিক্ষণ কেন্দ্রবিআরটিসি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, তেজগাঁও, ঢাকা
লক্ষ্যবস্তুপেশাজীবী পরিবহন চালক ও শ্রমিক, নতুন লাইসেন্সপ্রার্থী
অংশীদারিত্বপরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, বিআরটিসি, পুলিশ ও ট্রাফিক সার্জেন্টরা

সরকার আশা করছে, এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু হলে চালকদের সচেতনতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে, সড়কে দুর্ঘটনার হার হ্রাস পাবে এবং রাজধানী ঢাকার যানজট ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।