শাজাহান খানের ছেলে আসিবুরকে জুলাই হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার

ঢাকার মহানগর হাকিম মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম সোমবার (২৬ জানুয়ারি) জাতীয় রাজনীতির আলোচিত মামলা, জুলাই আন্দোলনে আফতাবনগরে আল আমিন হত্যাচেষ্টা মামলায়, সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের ছেলে আসিবুর রহমান খানকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন। আদালতে এই আদেশ আসে তদন্ত কর্মকর্তার আবেদন এবং সংশ্লিষ্ট শুনানির পর।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই জাকির হোসেন জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, বাড্ডা থানার এসআই হারুন-অর-রশিদ, ২০ জানুয়ারি আসিবুরের গ্রেপ্তারের আবেদন করেন। আদালত আসামিকে উপস্থিত থাকার জন্য সোমবার শুনানির দিন ঠিক করেছিলেন।

শুনানির সময় আসিবুরকে আদালতে হাজির করা হয়। তার পক্ষে আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীন যুক্তি উপস্থাপন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করেন। পরে আদালত আবেদন মেনে আসিবুরকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।

মামলার প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির সামনে রাজধানীর আফতাবনগরে রাজনৈতিক আন্দোলনে অংশগ্রহণের সময় আল আমিনকে আক্রমণ ও গুলিবর্ষণ করা হয়। আহত আল আমিনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করা হয়। ২০২৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর, আল আমিন বাড্ডা থানায় মামলা দায়ের করেন, যার বিরুদ্ধে ১৬ জনের মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

পরে, ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর, শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে আসিবুরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর তাকে বিভিন্ন হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় আদালতে গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়।

নিচে মামলার গুরুত্বপূর্ণ তারিখ ও ঘটনা সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

তারিখঘটনা
১৯ জুলাই ২০২৪আফতাবনগরে আন্দোলনে আল আমিনকে হামলা ও গুলিবর্ষণ, আহত হওয়ার ঘটনা
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৪আল আমিন মামলা দায়ের করেন (১৬ জনের বিরুদ্ধে, শেখ হাসিনাসহ)
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে আসিবুরকে গ্রেপ্তার
২০ জানুয়ারি ২০২৬বাড্ডা থানার এসআই গ্রেপ্তারের আবেদন করেন
২৬ জানুয়ারি ২০২৬ঢাকার মহানগর হাকিম আসিবুরকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন

এই ঘটনায় আসিবুরের বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলো রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে ব্যাপক গুরুত্ব পায়। বিশেষত, জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত হামলা এবং উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের অভিযুক্ত থাকার কারণে মামলাটি জাতীয় পর্যায়ে সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।