গরুর বাছুর ঢোকাকে কেন্দ্র করে কিশোর নিহত

বরগুনার তালতলী উপজেলায় ফুটবল খেলার সময় মাঠে গরুর বাছুর প্রবেশকে কেন্দ্র করে হযরত আলী (১৭) নামে এক কিশোরকে মারধরের ঘটনায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নিহত হযরত আলী উপজেলার হরিণখোলা গ্রামের মৃত ইদ্রিস খলিফার ছেলে।

স্থানীয় সূত্র ও পারিবারিক বিবরণ অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটে শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার হরিণখোলা মাদ্রাসা মাঠে। ওই সময় কয়েকজন কিশোর মাঠে ফুটবল খেলছিল। একই মাঠে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় কবিরাজপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিমের ছেলে মো. মুসা। অপরদিকে, হযরত আলী গরু নিয়ে পাশের রাস্তা দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন।

হঠাৎ করে একটি গরুর বাছুর মাঠে ঢুকে পড়লে খেলা সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়। এ ঘটনার পরপরই মো. মুসা ক্ষিপ্ত হয়ে হযরত আলীর ওপর হামলা চালান বলে স্থানীয়রা জানান। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি প্রথমে হযরত আলীকে মাদ্রাসার পুকুরের পাকা ঘাটে আছাড় দেন এবং পরে তাকে কিল, ঘুষি ও লাথি মারেন। এতে হযরত আলী গুরুতর আহত হন।

স্থানীয়রা পরে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান। পরবর্তী সময়ে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে রোববার সকালে পরিবারের সদস্যরা তাকে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরের দিকে তার মৃত্যু হয়।

নিহতের পরিবার জানায়, ঘটনার সময় হযরত আলী শারীরিকভাবে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন এবং ধীরে ধীরে অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। তবে আইনগত প্রক্রিয়ার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

তালতলী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শরিফুল ইসলাম জানান, মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে এবং পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিচে ঘটনার সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো—

বিষয়তথ্য
নিহতের নামহযরত আলী (১৭)
পিতার নামমৃত ইদ্রিস খলিফা
ঘটনা স্থানহরিণখোলা মাদ্রাসা মাঠ, তালতলী
ঘটনার তারিখ২৫ এপ্রিল (শনিবার) বিকেল
অভিযোগমাঠে বাছুর ঢোকাকে কেন্দ্র করে মারধর
অভিযুক্তমো. মুসা, প্রধান শিক্ষকের ছেলে
মৃত্যু স্থানতালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
আইনগত অবস্থাময়নাতদন্ত চলমান, অভিযোগ অনিষ্পন্ন