রাজধানীর শাহবাগ থানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নেতাদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের ৫০ বছর পরেও বিচারের মুখোমুখি করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ। তিনি বলেছেন, হামলায় অংশগ্রহণকারী, উসকানিদাতা এবং পরিকল্পনাকারী—সবার বিরুদ্ধেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রোববার (২৫ এপ্রিল) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, “সময়ের পরিক্রমায় এই ঘটনার বিচার আমরা নিশ্চিত করবই। আজ হোক বা ৫০ বছর পরে হোক—যারা হামলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, যারা উসকানি দিয়েছেন এবং যারা পরিকল্পনা করেছেন—প্রত্যেককে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, হামলাকারীরা তাদের শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছিল, তবে তারা তা করতে ব্যর্থ হয়েছে। তার ভাষায়, “আমাদের হত্যা করলেও আমাদের কথা থেমে যাবে না। আমাদের পরবর্তী প্রজন্মও এই ঘটনার কথা বলবে। আমাদের এই লড়াই অব্যাহত থাকবে।”
ডাকসুর এই নেতা অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক সহিংসতা বা হামলার ঘটনার পর তারা প্রতিবাদ জানালেও অনেকেই প্রকাশ্যে প্রতিক্রিয়া দিতে সাহস পাননি। তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নীরবতা লক্ষ্য করা গেছে।
তিনি আরও বলেন, “যারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত, তারা বিষয়টি নিয়ে উল্লাস করেছে। কিন্তু এই উল্লাস স্থায়ী হবে না। সময়ের পরিক্রমায় তাদেরও জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে।”
ঘটনার প্রেক্ষাপট
ঘটনার সূত্রপাত হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে। ওই পোস্টে প্রধানমন্ত্রী, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং তার কন্যা জাইমা রহমানের নাম ব্যবহার করে আপত্তিকর বিষয়বস্তু ছড়ানোর অভিযোগ ওঠে।
পোস্টটি ভুয়া দাবি করে এর বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে যান ডাকসুর শিবির প্যানেলের প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। পরবর্তীতে এ ঘটনায় ডাকসুর সদস্য এ বি জুবায়ের ও সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ থানায় গেলে সেখানে তাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়।
ঘটনার পর বিষয়টি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো হামলার নিন্দা জানিয়ে তদন্ত ও দায়ীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানায়।
পরবর্তীতে ডাকসুর পক্ষ থেকে দেওয়া বক্তব্যে ঘটনার বিচার নিশ্চিত করার দাবি পুনরায় উঠে আসে এবং বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় ও রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
