ব্যক্তিগত সহকারী থেকে হিরণের ঘরণী: কে এই হৃতিকা?

টলিউড অভিনেতা ও খড়গপুর সদরের বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে বর্তমানে ওপার বাংলার বিনোদন ও রাজনৈতিক অঙ্গন তোলপাড়। বেনারসের পবিত্র গঙ্গাবক্ষে মডেল হৃতিকা গিরির সঙ্গে হিরণের মালাবদলের ছবি প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক। বিশেষ করে হিরণের প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতার বিস্ফোরক অভিযোগ এবং হৃতিকার পাল্টা দাবিতে বিষয়টি এখন আইনি লড়াইয়ের পর্যায়ে পৌঁছেছে। সবার মনে এখন একটাই প্রশ্ন—কে এই হৃতিকা এবং কীভাবে তিনি হিরণের জীবনে এলেন?

হৃতিকার পরিচয় ও বর্ণাঢ্য জীবন

হৃতিকা গিরি পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুরের একটি মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। পেশায় তিনি একজন মডেল হলেও তাঁর মেধার স্বাক্ষর রয়েছে শিক্ষাজীবনেও। হৃতিকা মূলত একজন আইনের স্নাতক। পড়াশোনার পাশাপাশি গ্ল্যামার জগতেও তাঁর রয়েছে বিশেষ খ্যাতি। ২০১৯ সালে তিনি ‘মিস ইস্ট ইন্ডিয়া’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন এবং সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় বিজয়ীর মুকুট অর্জন করেন। শুধু সৌন্দর্য নয়, শরীরচর্চাতেও তিনি সমান পারদর্শী; যোগব্যায়ামে জাতীয় পর্যায়ে স্বর্ণপদক (গোল্ড মেডেল) পাওয়ার কৃতিত্ব রয়েছে তাঁর।

হৃতিকা গিরির জীবনবৃত্তান্ত ও অর্জনের সংক্ষিপ্ত সারণি:

বিষয়ের বিবরণবিস্তারিত তথ্য
জন্মস্থানপূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিমবঙ্গ।
শিক্ষাগত যোগ্যতাআইন বিভাগে স্নাতক (LL.B)।
পেশামডেল এবং একসময়ের ব্যক্তিগত সহকারী।
বয়সপ্রায় ২১ বছর (অনিন্দিতার দাবি অনুযায়ী)।
সাফল্যজাতীয় স্বর্ণপদক জয়ী (যোগব্যায়াম), ২০১৯ মিস ইস্ট ইন্ডিয়া।
সম্পর্কহিরণের সাথে গত ৫ বছর ধরে প্রণয় (হৃতিকার দাবি)।

ব্যক্তিগত সহকারী থেকে জীবনসঙ্গিনী: সম্পর্কের রহস্য

হৃতিকার সঙ্গে হিরণের পরিচয় বেশ পুরনো। প্রথম দিকে তিনি হিরণের ‘পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট’ বা ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে কাজ শুরু করেন। হিরণের রাজনৈতিক কর্মসূচি থেকে শুরু করে চলচ্চিত্রের কাজ—সবক্ষেত্রেই হৃতিকাকে ছায়ার মতো তাঁর পাশে দেখা যেত। তবে প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতার অভিযোগ, হিরণ তাঁকে বলেছিলেন হৃতিকা নাকি তাঁকে ‘ব্ল্যাকমেল’ করছেন। কিন্তু হৃতিকা সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক দীর্ঘ পোস্টে দাবি করেছেন, তাঁরা গত ৫ বছর ধরে লিভ-ইন সম্পর্কে রয়েছেন এবং তাঁদের বিয়ে অনেক আগেই সম্পন্ন হয়েছে। বেনারসের অনুষ্ঠানটি ছিল কেবলই মনের প্রশান্তির জন্য।

প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতার আইনি পদক্ষেপ

হিরণের বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁর প্রথম স্ত্রী অনিন্দিতা চট্টোপাধ্যায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। ২০০০ সালে বিয়ে হওয়া অনিন্দিতার দাবি, তাঁদের দীর্ঘ ২৫ বছরের দাম্পত্য জীবনের এখনো কোনো আইনি বিচ্ছেদ বা ডিভোর্স হয়নি। তাই হিরণের এই দ্বিতীয় বিয়ে সম্পূর্ণ ‘অবৈধ’। অনিন্দিতা ইতিমধ্যে কলকাতার আনন্দপুর থানায় হিরণ ও হৃতিকার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাঁর সাথে থানায় উপস্থিত ছিলেন হিরণের ১৯ বছর বয়সী কন্যা নিয়াসাও, যিনি এই ঘটনায় বাবার ওপর মানসিকভাবে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ।

 

উপসংহার

হিরণ ও হৃতিকার বয়সের ব্যবধান প্রায় ২৮ বছর, যা নিয়ে নেটপাড়ায় চলছে আলোচনা-সমালোচনা। হৃতিকার দাবি অনুযায়ী অনিন্দিতা সব জানতেন, কিন্তু অনিন্দিতার ভাষ্য অনুযায়ী তিনি বিশ্বাসঘাতকতার শিকার। আইনের ছাত্রী হয়েও হৃতিকা কেন বিবাহবিচ্ছেদহীন এক ব্যক্তির সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধলেন, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। এই জটিল ত্রিমুখী সম্পর্কের শেষ কোথায় এবং হিরণ কোনো আইনি শাস্তির মুখে পড়েন কি না, তা এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।