খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৩ই জানুয়ারি ২০২৬, ৬:৪৬ এএম

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ (সোনাগাজী ও দাগনভূঞা) আসনের নির্বাচনী পরিবেশ প্রথম দিনেই সরগরম হয়ে উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) নির্বাচনী প্রচারণার আনুষ্ঠানিক সূচনা করে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও দলীয় প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টু প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ধর্মের অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ তোলেন। দাগনভূঞার ইয়াকুবপুর ইউনিয়নের এতিমখানা বাজার এলাকায় আয়োজিত এক সমাবেশে তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন যে, বেহেশত বা পরকালের মুক্তি কোনো রাজনৈতিক দলের হাতে নেই; এটি কেবল মহান আল্লাহর দান।
Table of Contents
প্রচারণার সময় আবদুল আউয়াল মিন্টু অভিযোগ করেন যে, একটি নির্দিষ্ট প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষ বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারী ভোটারদের ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে খেলছে। তিনি বলেন, “মা-বোনদের বলা হচ্ছে তাদের প্রতীকে ভোট দিলে বেহেশতে যাওয়া যাবে। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, বেহেশতের মালিক কোনো দল বা নেতা নয়, স্বয়ং আল্লাহ। রাজনীতির ময়দানে পবিত্র ধর্মকে ব্যবহার করে ভোট ভিক্ষা করা জঘন্যতম কাজ।” তিনি ভোটারদের বিশেষ করে নারী ভোটারদের এই ধরণের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানান।
ফেনী-৩ আসনে মিন্টুর প্রচারণা ও পর্যবেক্ষণ:
| বিষয়ের বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য ও অবস্থান |
| মূল বার্তা | পরকালের মুক্তি আল্লাহর হাতে, কোনো নির্বাচনী প্রতীকে নয়। |
| তথ্য সুরক্ষা | এনআইডি ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহকারীদের বিরুদ্ধে তীব্র সতর্কতা। |
| নারী ভোটার | সোনাগাজী ও দাগনভূঞার নারী ভোটারদের ধানের শীষে উদ্বুদ্ধ করা। |
| উন্নয়ন অঙ্গীকার | স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া খাতের আধুনিকায়ন। |
| প্রচারণার সূচনা | নিজ গ্রাম আলাইয়াপুরে মা-বাবার কবর জিয়ারতের মাধ্যমে শুরু। |
বক্তব্যের একটি বড় অংশজুড়ে মিন্টু ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী বাড়ি বাড়ি গিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) এবং বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে। তিনি একে একটি ‘সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, “আপনার ব্যক্তিগত তথ্য অন্য কাউকে দেওয়া মানে আপনার ভোটাধিকার ও আর্থিক নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলা। জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য সংরক্ষণ করা আপনার নাগরিক দায়িত্ব।”
বৃহস্পতিবার সকালে নিজ গ্রাম আলাইয়াপুরে পিতা-মাতার কবর জিয়ারতের মাধ্যমে প্রচারণা শুরু করেন মিন্টু। দিনব্যাপী তিনি মুন্সি বাড়ির দরজা, দুধমুখা বাজার, দেওয়ান শাহ মাজার জিয়ারত এবং বরইয়া বাজারসহ উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে গণসংযোগ করেন। প্রতিটি সভায় তিনি জনগণের উদ্দেশ্যে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন। গণসংযোগে বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের কয়েক হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন।
ফেনী-৩ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। একই দিনে জামায়াত মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. ফখরুদ্দীনও ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছেন। তিনি দাগনভূঞার সিলোনিয়া ও সিন্দুরপুর এলাকায় গণসংযোগ করেন। বড় দলগুলোর প্রার্থীদের সরব উপস্থিতিতে এই আসনে নির্বাচনী উত্তাপ এখন তুঙ্গে।
আবদুল আউয়াল মিন্টুর প্রচারণা মূলত ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষা এবং ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার বার্তার ওপর ভিত্তি করে শুরু হয়েছে। একদিকে রাজনৈতিক অধিকার আদায়ের লড়াই, অন্যদিকে জালিয়াতি ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি—এই দুই কৌশলে তিনি ভোটারদের দ্বারে দ্বারে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।
মন্তব্য