প্রতীক বরাদ্দ শেষ: আগামীকাল থেকে ভোটারদের দ্বারে প্রার্থীরা

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন উৎসবের আমেজ। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত ডামাডোল বাজিয়ে আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) সারা দেশের ২৯৮টি নির্বাচনী এলাকায় প্রতীক বরাদ্দ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কার্যালয় থেকে প্রতীক পাওয়ার মাধ্যমে ১ হাজার ৯৭৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারণের আনুষ্ঠানিক লড়াই শুরু হলো। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ভোর থেকেই প্রার্থীরা তাঁদের নিজ নিজ এলাকায় নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগে অংশ নিতে পারবেন।

প্রচারণার সময়সীমা ও আচরণবিধি

ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) মো. রুহুল আমিন মল্লিক জানিয়েছেন, প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই প্রার্থীরা প্রচারণার জন্য আইনগতভাবে বৈধ। তবে ‘রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫’ অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে সব ধরনের প্রচারমূলক কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে। সেই হিসেবে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার সুযোগ পাবেন। জনসভা, পথসভা কিংবা মাইকিংয়ের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময় ও শব্দসীমা মেনে চলার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের একনজরে পরিসংখ্যান:

বিষয়ের বিবরণপরিসংখ্যান ও তারিখ
মোট আসন সংখ্যা৩০০ (প্রতীক বরাদ্দ হয়েছে ২৯৮ আসনে)
মোট জমাকৃত মনোনয়নপত্র২,৫৮০টি
চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী১,৯৭৩ জন
প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন৩০৫ জন
প্রচারণা শুরুর তারিখ২২ জানুয়ারি, ২০২৬
ভোটগ্রহণের তারিখ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
ভোটের সময়সকাল ৭:৩০ থেকে বিকাল ৪:৩০ (বিরতিহীন)

মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ও আপিলের চিত্র

এবারের নির্বাচনে মনোনয়নপত্রের বৈধতা নিয়ে ব্যাপক আইনি লড়াই দেখা গেছে। ৩০০টি আসনে দাখিল করা ২ হাজার ৫৮০টি মনোনয়নের মধ্যে প্রাথমিক বাছাইয়ে ৭২৫টি বাতিল হয়েছিল। এর মধ্যে ৬৪৫ জন প্রার্থী নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন এবং দীর্ঘ শুনানি শেষে ৪৩৭ জন তাঁদের প্রার্থিতা ফিরে পান। গতকাল মঙ্গলবার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে ৩০৫ জন সরে দাঁড়ানোয় চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা দুই হাজারের নিচে নেমে আসে। পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের আইনি জটিলতা থাকায় আপাতত ২৯৮টি আসনের প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

ব্যালট পেপার ও স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স

প্রতীক বরাদ্দের কাজ শেষ হওয়ার পর এখন নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী বড় চ্যালেঞ্জ ব্যালট পেপার মুদ্রণ। ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রতিটি আসনের প্রার্থীদের তালিকা সম্বলিত ‘ফরম-৫’ হাতে পাওয়ার পর আগামীকাল থেকেই ব্যালট পেপার ছাপানোর কাজ শুরু হবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবারও প্রথাগত ব্যালট পেপার ও স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ব্যবহার করা হবে। ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ চলবে। একই দিনে সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি দেশজুড়ে ঐতিহাসিক ‘গণভোট’ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতিও সম্পন্ন করেছে কমিশন।

নির্বাচনী আমেজ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা

গত ১১ ডিসেম্বর প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই সারা দেশে এক ধরনের রাজনৈতিক উত্তেজনা ও উদ্দীপনা কাজ করছে। প্রচারণার সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মাঠে কাজ করবেন ম্যাজিস্ট্রেট এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে প্রার্থিতা বাতিলের মতো কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে ইসি।

উপসংহার

আগামী তিন সপ্তাহ প্রার্থীরা তাঁদের নিজস্ব প্রতীক—নৌকা, ধানের শীষ, লাঙ্গল বা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিচিত্র সব প্রতীক নিয়ে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা করবেন। দীর্ঘ অপেক্ষার পর এই সাধারণ নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় এক নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভোটারদের রায়ে কারা সংসদে পৌঁছাবেন, তা জানা যাবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির সন্ধ্যার পর।