শিশুতে ভুল টিকা, চিকিৎসক বদলি

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জ্বরে আক্রান্ত এক পাঁচ বছর বয়সী শিশুকে ভুলবশত জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা প্রয়োগের ঘটনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত এক চিকিৎসকের শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা, সমালোচনা এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটে গত ৮ এপ্রিল। ওইদিন শিশু আলিফাকে সাধারণ জ্বরের চিকিৎসার জন্য তার পরিবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। পরিবারের ধারণা ছিল এটি স্বাভাবিক জ্বরজনিত চিকিৎসা হবে এবং প্রয়োজনীয় সাধারণ ওষুধ দেওয়া হবে। কিন্তু দায়িত্বে থাকা উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার আবু ইউসুফ ভুলবশত অন্য এক রোগীর জন্য প্রস্তুত রাখা জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা শিশুটির শরীরে প্রয়োগ করেন। এই ভুলের পরপরই হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার পরপরই বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজরে আসে এবং তাৎক্ষণিকভাবে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে দায়িত্ব পালনে অসতর্কতা ও পেশাগত অবহেলার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে আসে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। পরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ১৫ এপ্রিল এক আদেশে ওই চিকিৎসককে শাস্তিমূলকভাবে চাঁদপুরের শাহরাস্তি থেকে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করে।

তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সন্দ্বীপসহ বিভিন্ন এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, এটি প্রকৃত শাস্তি নয় বরং দায়িত্ব স্থানান্তর মাত্র। তাদের মতে, দুর্গম এলাকায় বদলি করে সমস্যার সমাধান না করে বরং স্বাস্থ্যসেবার ঝুঁকি অন্যত্র স্থানান্তর করা হচ্ছে।

সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, বদলির আদেশ পাওয়া চিকিৎসক এখনো সেখানে যোগদান করেননি। ফলে বর্তমানে বিষয়টি প্রশাসনিক পর্যায়ে আরও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।

ঘটনার ধারাবাহিক সময়সূচি নিচে তুলে ধরা হলো—

তারিখঘটনা
৮ এপ্রিলজ্বরের শিশুকে ভুলবশত জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা প্রয়োগ
৯–১৪ এপ্রিলহাসপাতাল পর্যায়ে তদন্ত ও তথ্য যাচাই কার্যক্রম
১৫ এপ্রিলস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শাস্তিমূলক বদলির আদেশ
পরবর্তী সময়সন্দ্বীপে বদলি নিয়ে স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা

এদিকে বদলির সিদ্ধান্ত প্রকাশের পর থেকেই সন্দ্বীপ এলাকায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনের এক প্রতিনিধি মন্তব্য করেন, শুধু বদলি করাই যথেষ্ট শাস্তি নয়; এতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে।

অন্যদিকে স্থানীয় এক ব্যবসায়ী ও শিক্ষানুরাগী বলেন, স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করতে হলে দায়িত্বে অবহেলার ক্ষেত্রে আরও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি ছিল। তার মতে, শুধু স্থান পরিবর্তন করলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব নয়।

স্বাস্থ্য প্রশাসনের একাধিক সূত্র বলছে, এ ধরনের ঘটনায় সাধারণত বিভাগীয় তদন্তের ভিত্তিতে সতর্কতা, সাময়িক বরখাস্ত, প্রশিক্ষণ বা প্রশাসনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকে। তবে এই ঘটনায় কোন ভিত্তিতে বদলিকে চূড়ান্ত শাস্তি হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় দায়িত্বশীলতা, পর্যাপ্ত তদারকি এবং চিকিৎসা নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও নিয়মিত তদারকি জোরদারের দাবি জোরালো হচ্ছে।