হাম পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি অবস্থা নয়

স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, দেশের বর্তমান হামের পরিস্থিতি এমন কোনো পর্যায়ে পৌঁছায়নি, যার কারণে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার প্রয়োজন হতে পারে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, বিদ্যমান অবস্থাকে মহামারি হিসেবে বিবেচনা করার মতো কোনো ভিত্তি নেই এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

সোমবার নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাম ও রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তিনি দেশের সার্বিক জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি, টিকাদান কর্মসূচির অগ্রগতি এবং শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন।

মন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি হামে আক্রান্ত হয়ে একটি শিশুর মৃত্যুর পরপরই সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেয়। আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসার জন্য বিশেষায়িত নিবিড় পরিচর্যা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সহায়তা নিশ্চিত করা হয়। তিনি দাবি করেন, পূর্ববর্তী সময়ের কিছু প্রশাসনিক দুর্বলতা ও ব্যবস্থাপনার ঘাটতির কারণে স্বাস্থ্যখাতে কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছিল, যার প্রভাব বর্তমান পরিস্থিতিতেও কিছুটা প্রতিফলিত হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, অতীতে স্বাস্থ্যখাতে অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা এবং সম্পদের অপব্যবহারের কারণে সেবা প্রদানে সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও সুসংগঠিত ও কার্যকর করার জন্য ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।

শিশুস্বাস্থ্য বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, অনেক পরিবারে এখনো সচেতনতার অভাব রয়েছে। বিশেষ করে কিছু কর্মব্যস্ত মা শিশুকে পর্যাপ্ত মাতৃদুগ্ধ প্রদান করছেন না, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তার মতে, মাতৃদুগ্ধ শিশুর প্রাথমিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর অভাবে শিশুদের মধ্যে বিভিন্ন সংক্রামক রোগ, বিশেষ করে হামসহ অন্যান্য ভাইরাসজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান, শিশুদের সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে মাতৃদুগ্ধপান ও নিয়মিত টিকাদানের বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি শিশুকে টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনা সরকারের অগ্রাধিকার।

অনুষ্ঠানে রূপগঞ্জ এলাকায় স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রস্তাব অনুযায়ী সেখানে একটি ১০০ শয্যার হাসপাতাল স্থাপনের বিষয়টি উত্থাপিত হয়। মন্ত্রী আশ্বাস দেন, সরকারের সহযোগিতায় শিগগিরই এই অঞ্চলে একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

হাম ও রুবেলা প্রতিরোধে চলমান টিকাদান কর্মসূচিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপকভাবে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। লক্ষ্য হলো শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং সংক্রামক রোগের বিস্তার রোধ করা।

নিচে মন্ত্রীর বক্তব্য ও কর্মসূচির প্রধান বিষয়গুলো সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—

বিষয়বিবরণ
কর্মসূচিহাম ও রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন
স্থানরূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ
জরুরি অবস্থাঘোষণা করার প্রয়োজন নেই
স্বাস্থ্য ব্যবস্থাআক্রান্ত শিশুদের জন্য নিবিড় পরিচর্যা ব্যবস্থা
প্রধান উদ্বেগমাতৃদুগ্ধের অভাব ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস
উন্নয়ন পরিকল্পনা১০০ শয্যার হাসপাতাল স্থাপনের উদ্যোগ

অনুষ্ঠানে আরও বলা হয়, স্বাস্থ্যখাতকে শক্তিশালী করতে টিকাদান কার্যক্রমের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত জরুরি। সরকার ভবিষ্যতে শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে বলে জানানো হয়।