নীলফামারী হাসপাতালে দুর্নীতি, স্থানীয়দের অপসারণ দাবি

দুর্নীতি-অনিয়মে জর্জরিত নীলফামারী জেনারেল হাসপাতাল,তত্ত্বাবধায়ক আবু আল হাজ্জাজের অপসারণ চায় এলাকা বাসী

নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবু আল হাজ্জাজ এর বিরুদ্ধে চার বছরের বেশি সময় ধরে আর্থিক অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও হাসপাতাল কর্মীদের অভিযোগ, তিনি হাসপাতালের মালামাল ক্রয় ও ভাউচার ব্যবস্থাপনায় এককভাবে নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছেন। প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ মালামাল ক্রয় দেখানো হলেও তা যথাযথভাবে স্টোরে মজুদ থাকে না।

অনেক ভাউচারে বিক্রেতার স্বাক্ষরও নেই, ফলে সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, এই অনিয়মে ডা. আবু হানিফ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। প্রশাসনিক দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও উভয় কর্মকর্তার দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত হয়নি। সূত্রের দাবি, চার বছরের মধ্যে ডা. হাজ্জাজ ভাউচারের মাধ্যমে বছরে প্রায় ৪ কোটি টাকা অবৈধ আয় করেছেন। এছাড়া, টেন্ডার জালিয়াতির মাধ্যমে চার বছরে প্রায় ২০ কোটি টাকা হাতিয়েছেন। ঠিকাদারের সঙ্গে সমন্বয় করে ক্রয়কৃত মালামালের মাত্র ২০ ভাগ জমা রাখা হলেও বাকী ৮০ ভাগ অর্থ লুটপাট করা হয়েছে।
ভুক্তভোগি ও এলাকাবাসী দুদক ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে দ্রুত তদন্ত চালিয়ে উভয় কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, পদক্ষেপ না নেওয়া হলে হাসপাতালের সেবা ব্যাহত হবে এবং রোগীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগের আমলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালিকের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এই কর্মকর্তা নারীর সঙ্গে জড়িত কেলেঙ্কারি ঘটনা চাপা দিয়েছিলেন। স্থানীয়রা আরও বলেছেন, নারী-লোভী ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার অনিয়ম প্রতিরোধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তারা আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেবে এবং হাসপাতালের কার্যক্রম স্বচ্ছ ও জনগণভিত্তিক হবে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে এই ধরনের অনিয়ম সার্বিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য হুমকি, যা শুধু স্থানীয় জনগণ নয়, দেশের স্বাস্থ্যসেবার মানকেও প্রভাবিত করতে পারে। তাই দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ অপরিহার্য।