জিলাইভ [ GLive ] | truth alone triumphs

একাত্তরের কণ্ঠযোদ্ধা মলয় কুমার গাঙ্গুলী,মারা গেছেন

একাত্তরের কণ্ঠযোদ্ধা ও বিশিষ্ট লোকসংগীতশিল্পী মলয় কুমার গাঙ্গুলী আর নেই। ঢাকার ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল রাত ৯টা ২০ মিনিটে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। মৃত্যুর সংবাদটি প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন তবলাশিল্পী পল্লব স্যানাল।

দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ ও ফুসফুসের জটিলতায় ভুগছিলেন মলয় কুমার গাঙ্গুলী। মৃত্যুর পর রাত ২টায় তাঁর মরদেহ ঢাকার জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের হিমঘরে রাখা হয়েছে। একমাত্র মেয়ে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় থাকায় আজ রাতেই তাঁর মেয়ে দেশে ফেরার পর চূড়ান্ত শেষকৃত্যের পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

মলয় কুমার গাঙ্গুলী স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে একাত্তরের সময় সক্রিয়ভাবে কাজ করেছিলেন। কলকাতায় গিয়ে বেতারকেন্দ্রে যোগদান করেন তিনি এবং এস এম আবদুল গণি বোখারীর লেখা ও সুরে ‘ওরে ও বাঙালি আর কতকাল থাকবি ঘুমেতে হইয়া বিভোর’ গানটিতে এককভাবে কণ্ঠ দেন। এই গান স্বাধীনতার সময় দেশের মানুষের মনোবল বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।

শিল্পী হিসেবে মলয় কুমার গাঙ্গুলী চলচ্চিত্র জগতেও বিশেষ অবদান রেখেছেন। তিনি ‘পুত্রবধূ’ সিনেমায় ‘গুরু উপায় বলো না’ গেয়ে দর্শক ও শ্রোতাদের মুগ্ধ করেছিলেন, যেখানে প্রয়াত অভিনেতা প্রবীর মিত্র সঙ্গে কণ্ঠের সংলাপ মিলিয়েছিলেন। এছাড়া ‘আমার মনতো বসে না’সহ আরও কয়েকটি চলচ্চিত্রের গানেও তাঁর কণ্ঠ শোনা যায়।

একাত্তরের নৃতাত্ত্বিক ও কণ্ঠযোদ্ধা তিমির নন্দী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করে লিখেছেন, “আমরা দিনে দিনে খুব একা হয়ে যাচ্ছি। এই শূন্যতা পূরণ হবার নয়। যেখানে আছেন, ভালো থাকুন, মলয়দা। দেশের জন্য আপনার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।”

উল্লেখযোগ্যভাবে, মলয় কুমার গাঙ্গুলী ‘যদি রাত পোহালে শোনা যেত, বঙ্গবন্ধু মরে নাই’–এর সুরকার ও কণ্ঠশিল্পী ছিলেন। গানটি পরবর্তী সময়ে জাতীয় সংগীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমীনও গেয়েছেন।

মলয় কুমার গাঙ্গুলীর জীবন ও সৃষ্টিশীল কর্মকাণ্ডের সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো:

তথ্যবিবরণ
জন্ম১৯৪৬, নেত্রকোনার কেন্দুয়ার মোজাফফরপুর গ্রাম
বয়স৮০ বছর
পেশাকণ্ঠশিল্পী, একাত্তরের কণ্ঠযোদ্ধা, চলচ্চিত্র সংগীতশিল্পী
উল্লেখযোগ্য গান‘ওরে ও বাঙালি…’, ‘যদি রাত পোহালে…’, ‘গুরু উপায় বলো না’, ‘আমার মনতো বসে না’
গুরুত্বপূর্ণ অবদানস্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে একাত্তরের সময় গান ও মনোবল বৃদ্ধি, চলচ্চিত্রে সাড়া ফেলা গান, দেশের সাংস্কৃতিক আন্দোলনে অবদান

মলয় কুমার গাঙ্গুলীর প্রয়াণ বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ও মুক্তিসংগ্রামী ইতিহাসে এক গভীর শূন্যতার সৃষ্টি করেছে। তাঁর সৃষ্টিশীল কণ্ঠ ও দেশপ্রেমিক উদ্ভাবন চিরকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

Tags :

Shourav Gurukul

Recent News