চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে মাদকবিরোধী এক ঝটিকা অভিযানে অভিনব পন্থায় গাঁজা পাচারের সময় র্যাব-১৫-এর হাতে ধরা পড়েছেন এক দম্পতি। সাধারণ পর্যটকের বেশে ট্রাভেল ব্যাগে করে বিপুল পরিমাণ মাদক বহন করছিলেন তারা। গত রাতে কক্সবাজারের রামু উপজেলার আমতলিয়া পাড়া এলাকায় একটি বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়ে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। আটককৃত দম্পতির কাছ থেকে মোট ১২ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।
অভিযানের বিস্তারিত ও কৌশল
র্যাব-১৫-এর নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারেন যে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা একটি যাত্রীবাহী বাসে করে মাদকের একটি বড় চালান পর্যটন নগরী কক্সবাজারে প্রবেশ করছে। এই তথ্যের ভিত্তিতে সহকারী পুলিশ সুপার (ল অ্যান্ড মিডিয়া) আ.ম. ফারুকের নেতৃত্বে র্যাবের একটি চৌকস দল রামুর আমতলিয়া পাড়া এলাকায় অবস্থান নেয়।
রোববার (৯ নভেম্বর) বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, চট্টগ্রাম থেকে আসা ‘স্টার লাইন’ পরিবহনের একটি বাস তল্লাশির জন্য থামানো হয়। বাসের অভ্যন্তরে তল্লাশিকালে এফ-৩ ও এফ-৪ সিটে বসা দুই যাত্রীর আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তাদের সাথে থাকা ট্রাভেল ব্যাগ ও কাঁধের ব্যাগ তল্লাশি করে লুকানো অবস্থায় মাদকের প্যাকেটগুলো উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত মাদকের বিবরণ
র্যাব সদস্যরা ব্যাগগুলো খুলে দেখতে পান যে, একটি নীল-সাদা রঙের ট্রাভেল ব্যাগে খাকি রঙের টেপ দিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে মোড়ানো দুটি বড় বান্ডেল রয়েছে, যার ভেতরে ৮ কেজি গাঁজা পাওয়া যায়। এছাড়া অপর একটি খয়েরি রঙের কাঁধের ব্যাগে আরও ৪ কেজি গাঁজা লুকানো ছিল। সব মিলিয়ে ১২ কেজি গাঁজা জব্দ করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য কয়েক লক্ষ টাকা।
আটককৃত মাদক কারবারিদের পরিচয় ও তথ্য
নিচে আটককৃত ব্যক্তিদের বিস্তারিত তথ্য ও জব্দকৃত আলামতের সংক্ষিপ্ত রূপরেখা দেওয়া হলো:
| বিষয় | তথ্য ও বিবরণ |
| আটক ব্যক্তির নাম | মো. রবিউল হোসেন (২৮) |
| পিতার নাম | মৃত সৈয়দ আমিন |
| সহযোগী (স্ত্রী) | রেহেলা আক্তার |
| স্থায়ী ঠিকানা | পরানীয়া পাড়া, পিএমখালী, কক্সবাজার সদর |
| জব্দকৃত মাদক | ১২ কেজি গাঁজা (দুটি ব্যাগে বিভক্ত) |
| পরিবহন মাধ্যম | স্টার লাইন পরিবহন (বাস) |
| অভিযান পরিচালনাকারী | র্যাব-১৫, কক্সবাজার |
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও সিন্ডিকেটের সন্ধান
আটককৃত রবিউল হোসেন ও তার স্ত্রী রেহেলা আক্তারকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। তারা র্যাবের কাছে স্বীকার করেছেন যে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিতেই তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয় ব্যবহার করে পর্যটকের ছদ্মবেশ ধারণ করতেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় পাইকারি ও খুচরা দরে গাঁজা বিক্রি করে আসছিলেন।
তদন্তে আরও জানা গেছে, এই চক্রটির সাথে ‘ইউনূস’ নামের এক পলাতক মাদক ব্যবসায়ী জড়িত। রবিউল দম্পতি নিয়মিতভাবে ওই ব্যক্তির কাছে মাদকের চালান পৌঁছে দিতেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বর্তমানে এই সিন্ডিকেটের মূল হোতা ইউনূসকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
আইনি ব্যবস্থা ও বর্তমান অবস্থা
র্যাব-১৫-এর সহকারী পুলিশ সুপার আ.ম. ফারুক জানান, জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ আটককৃত দম্পতিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সীমান্ত ও মহাসড়কগুলোতে মাদকের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে র্যাবের এই কঠোর নজরদারি ও অভিযান ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা হবে বলে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মাদক কারবারিরা এখন পরিবার বা দম্পতি পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে, যা সামাজিক নিরাপত্তার জন্য এক নতুন উদ্বেগ। এ ধরনের ঘটনা রোধে জনপরিবহনে যাত্রী সাধারণের সজাগ দৃষ্টি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়মিত তদারকি একান্ত প্রয়োজন।









