ডাম্বুলার আকাশ ভেঙে নামা বৃষ্টির কারণে কার্টেল ওভারের ম্যাচে রূপ নেওয়া সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে পাকিস্তানকে ১৪ রানে পরাজিত করেছে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা। শ্বাসরুদ্ধকর এই জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজটি ১-১ সমতায় শেষ হলো। ১২ ওভারের এই ‘মিনি’ ম্যাচে দুই দলের ইনিংসের শেষ ওভারগুলোই ব্যবধান গড়ে দিয়েছে। একদিকে শ্রীলঙ্কা শেষ ওভারে রানের পাহাড় গড়েছে, অন্যদিকে পাকিস্তান শেষ ওভারের সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে।
শানাকার তান্ডব ও লঙ্কান ব্যাটিং
বৃষ্টির বাধায় ম্যাচ শুরু হতে দেরি হওয়ায় আম্পায়াররা ম্যাচের ব্যাপ্তি কমিয়ে ১২ ওভার নির্ধারণ করেন। টস জিতে আগে ব্যাটিং করতে নেমে শ্রীলঙ্কা নির্ধারিত ওভারে ৬ উইকেটে ১৬০ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায়। লঙ্কানদের এই বড় পুঁজিতে মূল ভূমিকা রাখেন অধিনায়ক দাসুন শানাকা। ইনিংসের শেষ ওভারে পাকিস্তানের পেসার মোহাম্মদ ওয়াসিমের ওপর রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন তিনি। ওভারের প্রথম তিন বলেই হ্যাটট্রিক ছক্কা হাঁকিয়ে শানাকা লঙ্কান ডাগআউটে স্বস্তি ফেরান। মাত্র ৯ বলের ক্যামিও ইনিংসে তিনি ৩৪ রান সংগ্রহ করেন, যেখানে ৩০ রানই আসে ছক্কা থেকে। এছাড়া কুশল মেন্ডিস (১৬ বলে ৩০) এবং ধনাঞ্জয়া ডি সিলভার কার্যকর ব্যাটিং শ্রীলঙ্কাকে লড়াকু লক্ষ্য এনে দেয়।
ম্যাচের মূল চিত্র ও সংক্ষিপ্ত স্কোর নিচে টেবিলের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
এক নজরে শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচের পরিসংখ্যান
| ক্যাটাগরি | বিস্তারিত তথ্য |
| ভেন্যু ও কন্ডিশন | ডাম্বুলা, ১২ ওভারের ম্যাচ (বৃষ্টি বিঘ্নিত) |
| শ্রীলঙ্কার ইনিংস | ১৬০/৬ (১২ ওভার) |
| পাকিস্তানের ইনিংস | ১৪৬/৮ (১২ ওভার) |
| সেরা ব্যাটার (শ্রীলঙ্কা) | দাসুন শানাকা (৯ বলে ৩৪ রান) |
| সেরা ব্যাটার (পাকিস্তান) | সালমান আগা (১২ বলে ৪৫ রান) |
| সেরা বোলার (শ্রীলঙ্কা) | ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা (৪/৩৫) |
| ফল ও সিরিজ | শ্রীলঙ্কা ১৪ রানে জয়ী (সিরিজ ১-১ ড্র) |
পাকিস্তানের রান তাড়া ও শেষ ওভারের ট্র্যাজেডি
১৬১ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আগা রীতিমতো ঝড় তোলেন। মাত্র ১২ বলে ৪টি চার ও ৪টি ছক্কায় ৪৫ রান করে তিনি যখন আউট হন, তখন পাকিস্তানের স্কোর ছিল ৩.৪ ওভারে ৬০ রান। এরপর মোহাম্মদ নেওয়াজ (২৮) ও খাজা নাফি (২৬) জয়ের সম্ভাবনা টিকিয়ে রেখেছিলেন। জয়ের জন্য শেষ ৬ বলে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ২০ রান।
লঙ্কান পেসার ঈশান মালিঙ্গার করা শেষ ওভারটি ছিল চরম নাটকীয়। ওভারের প্রথম বলেই ফাহিম আশরাফ রানআউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন। এরপর মোহাম্মদ ওয়াসিম স্ট্রাইকে এলেও মালিঙ্গার গতির কাছে পরাস্ত হন। ওয়াইড থেকে ৪ রান এলেও ওয়াসিম একটি বলও ব্যাটে ছোঁয়াতে পারেননি। ফলে শেষ ওভারে মাত্র ৫ রান নিতে সক্ষম হয় পাকিস্তান। ৮ উইকেটে ১৪৬ রানে থামে তাদের ইনিংস।
হাসারাঙ্গার ঘূর্ণি ও সিরিজ সমতা
শ্রীলঙ্কার জয়ের নেপথ্যে বড় অবদান ছিল স্পিনার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার। তিনি ৩ ওভারে ৩৫ রান দিলেও তুলে নেন মূল্যবান ৪টি উইকেট। তাঁর নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের কারণেই পাকিস্তান মিডল অর্ডারে খেই হারিয়ে ফেলে। ম্যাচে এবং সিরিজে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের সুবাদে হাসারাঙ্গা একাধারে ‘ম্যাচ সেরা’ ও ‘সিরিজ সেরা’র পুরস্কার জিতে নেন। উল্লেখ্য, সিরিজের প্রথম ম্যাচে পাকিস্তান জয় পেলেও দ্বিতীয় ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পণ্ড হয়েছিল।
