বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) চলতি আসরে আজ এক বিরল ও আবেগময় দৃশ্যের সাক্ষী হলো ক্রিকেটবিশ্ব। একই দলের জার্সি গায়ে মাঠে নেমেছিলেন কিংবদন্তি আফগান অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবী এবং তাঁর সুযোগ্য পুত্র হাসান ইসাখিল। এর আগে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি লিগে তারা একে অপরের বিপক্ষে ছয়বার লড়াই করলেও, এবারই প্রথম সতীর্থ হিসেবে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের হয়ে মাঠ মাতালেন। এই ঐতিহাসিক দিনে বাবার পরামর্শ উপেক্ষা করে ব্যক্তিগত শতক মিস করলেও দলের জয়ে অবদান রাখতে পেরে উচ্ছ্বসিত হাসান।
মাঠে বাবা-ছেলের রসায়ন ও রেকর্ড জুটি
নোয়াখালী এক্সপ্রেসের হয়ে ইনিংস মেরামতের দায়িত্ব আজ কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন এই পিতা-পুত্র। চতুর্থ উইকেটে তারা দুজনে মিলে মাত্র ৩০ বলে ৫৩ রানের এক ঝোড়ো জুটি গড়েন। নবী যখন ১৮তম ওভারের শেষ বলে আউট হয়ে মাঠ ছাড়ছিলেন, হাসান তখন সেঞ্চুরির খুব কাছে—৯২ রানে দাঁড়িয়ে। নবী সাজঘরে যাওয়ার আগে ছেলেকে মূল্যবান এক পরামর্শ দিয়েছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন ছেলে যেন বড় শট না খেলে ঠান্ডা মাথায় সিঙ্গেল নিয়ে নিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি শতকটি পূর্ণ করেন।
ম্যাচের উল্লেখযোগ্য কিছু তথ্য নিচের সারণিতে তুলে ধরা হলো:
ম্যাচ পরিসংখ্যান: নবী ও হাসানের ঐতিহাসিক দিন
| বিষয়ের ক্ষেত্র | বিস্তারিত বিবরণ |
| দল ও প্রতিপক্ষ | নোয়াখালী এক্সপ্রেস বনাম খুলনা রাইডার্স |
| বাবা-ছেলের জুটি | ৩০ বলে ৫৩ রান (৪র্থ উইকেট) |
| হাসানের ব্যক্তিগত সংগ্রহ | ৯২ রান (৫৪ বল) |
| সেঞ্চুরি থেকে দূরত্ব | মাত্র ৮ রান |
| টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ার | ৩১ ম্যাচে ৭টি হাফ-সেঞ্চুরি |
| ম্যাচের ফলাফল | নোয়াখালী এক্সপ্রেস ৪১ রানে জয়ী |
| বিশেষ অর্জন | বিপিএলে প্রথম বাবা-ছেলে সতীর্থ জুটি |
বাবার আদেশ বনাম দলের প্রয়োজন
ম্যাচ শেষে সম্প্রচারকদের দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মোহাম্মদ নবী বলেন, “আমি ওকে বলেছিলাম, হাতে ১২ বল বাকি আছে আর সেঞ্চুরি করতে মাত্র ৮ রান লাগে। তুমি ছক্কা মারার চেষ্টা না করে বল মাটিতে খেলে শুধু রান নাও।” কিন্তু বাবার সেই ‘সেফ গেম’ খেলার পরামর্শ শোনেননি তরুণ তুর্কি হাসান। সাইফউদ্দিনের করা ১৯তম ওভারের একটি ডেলিভারি সীমানার ওপারে পাঠাতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। মাত্র ৮ রানের জন্য সেঞ্চুরি হাতছাড়া হলেও হাসানের ব্যাটিং শৈলী সবার নজর কেড়েছে।
হাসানের বীরত্ব ও নবীর গর্ব
সংবাদ সম্মেলনে বাবার পাশে বসে হাসান ইসাখিল অত্যন্ত সাবলীলভাবে জানান কেন তিনি বাবার কথা শোনেননি। হাসান বলেন, “আমার মাথায় তখন সেঞ্চুরির চিন্তা ছিল না, আমি শুধু ছক্কা মেরে দলের সংগ্রহটাকে বড় করতে চেয়েছিলাম। ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলের বড় জয় আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তাই সেঞ্চুরি না হওয়ায় আমার কোনো আফসোস নেই।” ৯২ রানের এই ইনিংসটি তাঁর টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহ।
ছেলের এমন লড়াকু মানসিকতায় মুগ্ধ নবী। তিনি জানান, বাংলাদেশের মন্থর ও কঠিন উইকেটে মানিয়ে নিয়ে খেলা যেকোনো তরুণের জন্য চ্যালেঞ্জিং। হাসান গত ২০ দিন ধরে এই লিগের জন্য যে পরিশ্রম করেছেন, মাঠের পারফরম্যান্সে তারই প্রতিফলন ঘটেছে। নবী মনে করেন, এমন সাহসিকতাই একজন ক্রিকেটারকে ভবিষ্যতে বড় তারকা হতে সাহায্য করে।
