বিআইবিএমের নতুন মহাপরিচালক ড. মো. এজাজুল ইসলাম: এক বর্ণাঢ্য প্রোফাইল

দেশের ব্যাংকিং খাতের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণার প্রধান কেন্দ্র বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্ট (বিআইবিএম)-এর মহাপরিচালক (ডিরেক্টর জেনারেল) পদে নিযুক্ত হয়েছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. মো. এজাজুল ইসলাম। ব্যাংকিং খাতের সমসাময়িক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং মুদ্রানীতি বিশেষজ্ঞ হিসেবে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা বিআইবিএমের গবেষণা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

পেশাগত অভিজ্ঞতা ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ভূমিকা

বিআইবিএমে যোগদানের পূর্বে ড. এজাজুল ইসলাম বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক (গ্রেড-১) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকে তাঁর কর্মজীবন দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময়ের। এই সুদীর্ঘ সময়ে তিনি দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সরাসরি নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিশেষ করে মুদ্রানীতি বিভাগের প্রধান হিসেবে তিনি মুদ্রানীতি কমিটি, বৈদেশিক মুদ্রা নিলাম কমিটি এবং মানি মার্কেট অপারেশন কমিটির মতো সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন।

ড. এজাজুল ইসলামের পেশাগত দক্ষতা ও একাডেমিক অর্জনসমূহ নিচের সারণিতে সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো:

এক নজরে ড. মো. এজাজুল ইসলামের কর্মজীবন ও পরিচিতি

বিষয়ের ক্ষেত্রবিস্তারিত তথ্য ও বিবরণ
বর্তমান পদমর্যাদামহাপরিচালক, বিআইবিএম।
পূর্বতন অভিজ্ঞতানির্বাহী পরিচালক (গ্রেড-১), বাংলাদেশ ব্যাংক।
বিশেষায়িত ক্ষেত্রমুদ্রানীতি, সামষ্টিক অর্থনীতি ও তারল্য ব্যবস্থাপনা।
একাডেমিক সাফল্যমুদ্রা অর্থনীতিতে পিএইচডি (PhD) ডিগ্রি।
গবেষণা কর্ম৩৫টিরও বেশি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন গবেষণাপত্র।
উদ্ভাবনী উদ্যোগইন্টারেস্ট রেট করিডর ও মুদ্রানীতি আধুনিকীকরণ।
পেশাগত সম্মাননা২০১৩ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক গোল্ড মেডেল প্রাপ্তি।

আর্থিক খাতের আধুনিকায়নে অবদান

ড. এজাজুল ইসলাম কেবল একজন প্রশাসক নন, বরং একজন আধুনিক অর্থনীতিবিদ হিসেবে দেশের মুদ্রানীতি কাঠামো পরিবর্তনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির সমন্বয়সাধন, বিনিময় হার নির্ধারণ এবং সুদের হারের আধুনিক কাঠামো তৈরিতে তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে ‘ইন্টারেস্ট রেট করিডর’ চালুর মাধ্যমে দেশের তারল্য ব্যবস্থাপনাকে আরও সুসংহত ও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি প্রদানের ক্ষেত্রে তিনি মূল কারিগরের ভূমিকা পালন করেছেন। মানি মার্কেট অপারেশনের উপকরণগুলো সহজীকরণ এবং কার্যকর তারল্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণে তাঁর গৃহীত পদক্ষেপগুলো ব্যাংকিং খাতে ব্যাপকভাবে সমাদৃত হয়েছে।

গবেষণা ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি

একাডেমিক ক্ষেত্রেও ড. ইসলাম অত্যন্ত সমৃদ্ধ। তিনি মুদ্রা অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তাঁর গবেষণার মূল ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে অর্থনীতি, ঋণ ব্যবস্থাপনা, বিনিময় হার এবং ব্যাংকিং খাতের সুদের হারের প্রভাব। দেশি ও বিদেশি স্বনামধন্য রেফারিড জার্নালে এ পর্যন্ত তাঁর ৩৫টিরও বেশি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। কর্মদক্ষতা এবং আর্থিক নীতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৩ সালে তিনি ‘বাংলাদেশ ব্যাংক গোল্ড মেডেল’ (এমপ্লয়িজ রিকগনিশন অ্যাওয়ার্ড) লাভ করেন।

বিআইবিএমের প্রত্যাশা

বর্তমান অস্থিতিশীল বিশ্ব অর্থনীতি এবং দেশের ব্যাংকিং খাতের সংস্কারের এই সন্ধিক্ষণে ড. এজাজুল ইসলামের মতো একজন অভিজ্ঞ নীতিনির্ধারকের হাতে বিআইবিএমের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। তাঁর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি ব্যাংকিং পেশাজীবীদের জন্য আরও বাস্তবমুখী ও আধুনিক প্রশিক্ষণ মডিউল তৈরি করতে পারবে এবং ব্যাংক খাতের জটিল সমস্যা সমাধানে গবেষণাভিত্তিক দিকনির্দেশনা প্রদান করতে সক্ষম হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।