সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সবটুকু রোমাঞ্চ আর নাটকীয়তা যেন একই বিন্দুতে এসে মিলেছিল। বিপিএলের এই শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বিপক্ষে ১ উইকেটের অবিস্মরণীয় জয় পেয়েছে সিলেট টাইটানস। ১৮তম ওভারে মেহেদী হাসান রানার হ্যাটট্রিকে সিলেটের গ্যালারি যখন স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল, ঠিক তখনই শেষ ওভারের অবিশ্বাস্য নাটকীয়তায় জয় ছিনিয়ে নেয় স্বাগতিকরা। ১ বলে ২ রানের কঠিন সমীকরণ থেকে নাটকীয় উপায়ে জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে সিলেট। এই জয়ের ফলে দুই ম্যাচে নিজেদের প্রথম পয়েন্ট অর্জন করল সিলেট, অন্যদিকে নোয়াখালীকে মাঠ ছাড়তে হয়েছে টানা দ্বিতীয় হারের তিক্ত স্বাদ নিয়ে।
১৪৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সিলেট টাইটানস এক সময় ৩ উইকেটে ১১৭ রান তুলে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল। তখন জয়ের জন্য ২৭ বলে প্রয়োজন ছিল মাত্র ২৭ রান। কিন্তু ক্রিকেটের অনিশ্চয়তা জেঁকে বসে সিলেটের ইনিংসে। মাত্র ৮ রান যোগ করতেই তারা হুট করে ৫টি উইকেট হারিয়ে ম্যাচটি নোয়াখালীর হাতে তুলে দেয়। ম্যাচের ১৮তম ওভারে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের বাঁহাতি পেসার মেহেদী হাসান রানা এক অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়েন। ওভারের শেষ তিন বলে তিনি একে একে সাজঘরে ফেরান মেহেদী হাসান মিরাজ, নাসুম আহমেদ এবং খালেদ আহমেদকে। টি-টোয়েন্টিতে নবম বাংলাদেশি বোলার হিসেবে এই হ্যাটট্রিক পূর্ণ করে তিনি সিলেটকে হারের মুখে ঠেলে দেন। গ্যালারিতে তখন পিনপতন নীরবতা, কারণ জয়ের খুব কাছে গিয়েও পরাজয় তখন সিলেটের জন্য সময়ের ব্যাপার মনে হচ্ছিল।
জয়ের জন্য শেষ ওভারে সিলেটের দরকার ছিল ১৩ রান। বল করতে আসেন সাব্বির হোসেন। প্রথম দুই বল ডট দিয়ে তিনি নোয়াখালীকে জয়ের সুবাস পাইয়ে দেন। কিন্তু তৃতীয় বলটি নো হওয়ায় কপাল ফেরে সিলেটের। ফ্রি-হিটে বিশাল এক ছক্কা এবং পরের বলে চার মেরে সমীকরণ সহজ করে দেন ইথান ব্রুকস। ২ বলে ২ রান দরকার থাকা অবস্থায় পঞ্চম বলে ব্রুকস রানআউট হয়ে গেলে আবারও স্নায়ুচাপ বেড়ে যায়। শেষ ১ বলে যখন ২ রান প্রয়োজন, তখন সাব্বির লেগ সাইডে ওয়াইড দিলে সমীকরণ দাঁড়ায় ১ বলে ১ রান। শেষ বলটি ব্যাটার সালমান ইরশাদ ব্যাটে লাগাতে না পারলেও লেগ বাই থেকে দ্রুত রান নিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন। নোয়াখালী এলবিডব্লিউর জন্য রিভিউ নিলেও তা সফল হয়নি, ফলে গ্যালারি মেতে ওঠে উৎসবে।
ম্যাচ পরিসংখ্যান ও সংক্ষিপ্ত স্কোরবোর্ড
| বিবরণ | নোয়াখালী এক্সপ্রেস | সিলেট টাইটানস |
| মোট রান ও উইকেট | ১৪৩/৭ (২০ ওভার) | ১৪৪/৯ (২০ ওভার) |
| সেরা ব্যাটার | মাহিদুল ইসলাম (৬১*) | পারভেজ হোসেন ইমন (৬০) |
| সেরা বোলার | মেহেদী হাসান রানা (৪/৩৪) | খালেদ আহমেদ (৪/২৩) |
| বিশেষ অর্জন | মেহেদী রানার হ্যাটট্রিক | সিলেটের ১ উইকেটে জয় |
| ফলাফল | — | সিলেট ১ উইকেটে জয়ী |
| ম্যাচ সেরা | — | খালেদ আহমেদ |
এর আগে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই চরম বিপর্যয়ে পড়ে নোয়াখালী এক্সপ্রেস। দলের প্রথম চার ব্যাটারের মধ্যে তিনজনই সাজঘরে ফেরেন শূন্য রানে। খালেদ আহমেদ ৪ ওভারে মাত্র ২৩ রান দিয়ে ৪ উইকেট শিকার করে নোয়াখালীর ব্যাটিং লাইনআপ তছনছ করে দেন। মাহিদুল ইসলামের ৫১ বলে ৬১ এবং জাকের আলীর ১৭ বলে ২৯ রানের ইনিংসে ভর করে ১৪৩ রানের লড়াকু পুঁজি পায় নোয়াখালী। সিলেটের পক্ষে রান তাড়ায় ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন ৪১ বলে ৬০ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে জয়ের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন। অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজও খেলেন ৩৩ রানের কার্যকরী ইনিংস। দিনশেষে ইথান ব্রুকসের ১৩ বলে ১৬ রানের ক্যামিও আর শেষ মুহূর্তের অতিরিক্ত রান সিলেটকে এনে দেয় এক রোমাঞ্চকর পূর্ণতা।
