অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে শহীদ ওসমান হাদির আবৃত্তি করা ‘বিদ্রোহী’ কবিতার ভিডিও এবং প্রোফাইল ছবিটি হঠাৎ অদৃশ্য হয়ে যাওয়ায় ডিজিটাল মাধ্যমে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গত বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) রাত থেকে এই রহস্যজনক পরিবর্তনটি সাধারণ ব্যবহারকারীদের নজরে আসে। কবিতার ভিডিওটি প্রকাশের পর থেকেই তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বৈপ্লবিক এবং আধিপত্যবাদ বিরোধী প্রতীক হিসেবে ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছিল। ফলে হঠাৎ এটি উধাও হয়ে যাওয়া নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার পেজটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, আলোচিত সেই ভিডিওটি আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। একইসাথে পেজটির প্রোফাইল ছবিও অনুপস্থিত রয়েছে। এই পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে কড়া সমালোচনা ধেয়ে আসছে। বিশেষ করে ‘জুলাই ঐক্য’ নামক একটি প্ল্যাটফর্ম থেকে বৃহস্পতিবার এক পোস্টে সরাসরি সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। তারা দাবি করেন, ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরোধী চেতনার ফসল এই ভিডিওটি সরিয়ে নেওয়ার পেছনে কোনো বিশেষ মহলের ইশারা থাকতে পারে। শহীদ ওসমান হাদির অনুসারীরা বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছেন।
উদ্ভূত পরিস্থিতি এবং সংশ্লিষ্ট প্রেস উইংয়ের বক্তব্য নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
ফেসবুক পেজের পরিবর্তন ও বর্তমান অবস্থা
| বিষয়ের বিবরণ | বিস্তারিত তথ্য ও বর্তমান স্থিতি |
| নিখোঁজ কনটেন্ট | শহীদ ওসমান হাদির ‘বিদ্রোহী’ কবিতার আবৃত্তি। |
| পেজের গ্রাফিক্স | প্রোফাইল ছবিটি বর্তমানে দৃশ্যমান নয়। |
| সময়কাল | বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) রাত থেকে সমস্যাটি শুরু। |
| প্রাথমিক ধারণা | ব্যবহারকারীদের একাংশের মতে এটি পরিকল্পিত সেন্সরশিপ। |
| অফিসিয়াল অবস্থান | এটি ফেসবুকের একটি কারিগরি ত্রুটি (Technical Error)। |
| পরবর্তী পদক্ষেপ | মেটা (Meta) কর্তৃপক্ষের সাথে সমস্যা সমাধানে যোগাযোগ। |
এই রহস্যময় উধাও হওয়ার বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে তাৎক্ষণিক ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহমদ জানান, সরকার বা উপদেষ্টার দপ্তর থেকে কোনো ভিডিও বা ছবি ম্যানুয়ালি ডিলিট করা হয়নি। তিনি দাবি করেন, এটি মূলত ফেসবুকের একটি যান্ত্রিক বা কারিগরি ত্রুটির কারণে হতে পারে। বর্তমানে পেজটির স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট টেকনিক্যাল টিম ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা’র সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছে এবং দ্রুতই এটি ঠিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে সরকারি এই ব্যাখ্যায় অনেকেই সন্তুষ্ট হতে পারছেন না। বিশ্লেষকদের মতে, ওসমান হাদির মৃত্যু পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তাঁর এই ভিডিওটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং প্রভাবশালী হয়ে উঠেছিল। অনেকে ধারণা করছেন, ভিডিওটির গণ-রিপোর্ট (Mass Reporting) বা অন্য কোনো সাইবার জটিলতার কারণে ফেসবুক এটি সাময়িকভাবে সরিয়ে নিতে পারে। আবার রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে যে, কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় হয়তো ভিডিওটি কৌশলগত কারণে সরিয়ে রাখা হয়েছে। ফেসবুকের পক্ষ থেকে পূর্ণাঙ্গ কারিগরি ব্যাখ্যা না আসা পর্যন্ত এই বিতর্কের অবসান ঘটছে না বলেই মনে করা হচ্ছে।









