নির্বাচনী কৌশলে বড় পরিবর্তন: পদ ছেড়ে বিএনপিতে রাশেদ খাঁন

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জোটবদ্ধ রাজনীতি ও কৌশলগত মেরুকরণে এক নাটকীয় মোড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন তাঁর বর্তমান পদ ছেড়ে দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলে (বিএনপি) যোগদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই ঘটনাটি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলেও দলটির সভাপতি নুরুল হক নুর একে নিছক দলবদল হিসেবে দেখছেন না। বরং তাঁর দাবি অনুযায়ী, এটি একটি গভীর রাজনৈতিক ও ‘নির্বাচনী জয়ের কৌশল’।

শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে নুরুল হক নুর এই রাজনৈতিক কৌশলের বিষয়টি জনসাধারণের সামনে স্পষ্ট করেন। তিনি জানান, আসন্ন নির্বাচনে জয় নিশ্চিত করতেই দলীয় সিদ্ধান্তে রাশেদ খাঁন বিএনপির পতাকাতলে গিয়ে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। অন্যদিকে, নুর নিজে পটুয়াখালী-৩ আসন থেকে গণঅধিকার পরিষদের নিজস্ব প্রতীক ‘ট্রাক’ নিয়ে নির্বাচনে লড়বেন। নুরের মতে, একই রাজনৈতিক জোটের অংশীদার হয়েও ভিন্ন ভিন্ন প্রতীক ব্যবহারের মাধ্যমে ভোটারদের সমর্থন এবং আসন লাভ করাই তাঁদের মূল উদ্দেশ্য।

নির্বাচনী সমঝোতা ও দুই নেতার আসন বিন্যাসের একটি বিস্তারিত রূপরেখা নিচের সারণিতে তুলে ধরা হলো:

আসন্ন নির্বাচনে নুর ও রাশেদ খাঁনের কৌশলগত অবস্থান

প্রার্থীর নামরাজনৈতিক পরিচয়মনোনীত নির্বাচনী আসননির্বাচনী প্রতীকমূল কৌশল
নুরুল হক নুরসভাপতি, গণঅধিকার পরিষদপটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা)ট্রাক (নিজস্ব প্রতীক)দলের একক সাংগঠনিক শক্তি প্রমাণ করা।
রাশেদ খাঁনসদস্য, বিএনপি (সাবেক জিওপি)ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ)ধানের শীষ (বিএনপি)জোটের প্রধান প্রতীকের গণভিত্তি ব্যবহার।
মির্জা ফখরুলমহাসচিব, বিএনপিনীতিনির্ধারক ও সমন্বয়কশরিকদের আসন ছেড়ে দিয়ে জোট রক্ষা।
আবু হানিফউচ্চতর পরিষদ সদস্য, জিওপিসাংগঠনিক মুখপাত্রপদত্যাগ ও পরবর্তী নেতৃত্ব নির্বাচন।

এর আগে গত বুধবার গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান যে, যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সাথে দীর্ঘ আলোচনার পর বিএনপি কিছু গুরুত্বপূর্ণ আসন ছেড়ে দিয়েছে। এর মধ্যে গণঅধিকার পরিষদের দুই শীর্ষ নেতার জন্য পটুয়াখালী-৩ এবং ঝিনাইদহ-৪ আসনটি নিশ্চিত করা হয়। তবে রাশেদ খাঁনের ক্ষেত্রে সরাসরি বিএনপিতে যোগ দিয়ে নির্বাচন করার বিষয়টি একটি ব্যতিক্রমী কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাশেদ খাঁনের পদত্যাগের পর গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক পদটি বর্তমানে শূন্য রয়েছে। দলটির উচ্চতর পরিষদ সদস্য আবু হানিফ জানিয়েছেন, অতি দ্রুত নির্বাহী পরিষদ ও উচ্চতর পরিষদের যৌথ বৈঠকের মাধ্যমে নতুন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করা হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাশেদ খাঁনের এই পদক্ষেপ মূলত ছোট দলগুলোর জন্য বড় দলের প্রতীকে ভোট করার একটি পুরনো কিন্তু কার্যকর মাধ্যম। এতে যেমন বড় দলের বিশাল ভোট ব্যাংক কাজে লাগানো যায়, তেমনি আসন নিশ্চিত হওয়ার সম্ভাবনাও বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে, নুরুল হক নুরের নিজস্ব প্রতীকে নির্বাচন করার সিদ্ধান্তটি তাঁর দলের আদর্শিক ভিত্তি ও একক পরিচয় ধরে রাখার একটি সাহসিকতাপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।