কুষ্টিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া, কর্তব্যরত অবস্থায় নিহত দুই পুলিশ সদস্য

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার লালন শাহ ব্রিজ এলাকায় এক হৃদয়বিদারক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের দুই সদস্য। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনা গোটা কুষ্টিয়া ও পাবনা জেলা পুলিশে শোকের আবহ সৃষ্টি করেছে। নিহত পুলিশ কর্মকর্তারা হলেন পুলিশ পরিদর্শক মুজহার ও উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই) কায়েম। তারা দুজনই পাবনা জেলা পুলিশে কর্মরত ছিলেন এবং দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবেই সড়কে চলাচল করছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ওই দুই পুলিশ সদস্য একটি মোটরসাইকেলে করে পাবনা থেকে কুষ্টিয়ার দিকে যাচ্ছিলেন। লালন শাহ ব্রিজ পার হওয়ার পরপরই পেছন দিক থেকে দ্রুতগতির একটি কাভার্ড ভ্যান মোটরসাইকেলটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার তীব্রতায় মোটরসাইকেলটি ছিটকে পড়ে এবং দুই আরোহী সড়কে পড়ে যান। দুর্ভাগ্যজনকভাবে তারা দুজনই কাভার্ড ভ্যানের নিচে চাপা পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান জানান, দুর্ঘটনাটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে উদ্ধার কার্যক্রম শুরুর আগেই দুই পুলিশ সদস্যের মৃত্যু নিশ্চিত হয়। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান এবং যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এই দুর্ঘটনা আবারও দেশের মহাসড়কে ভারী যানবাহনের বেপরোয়া চলাচলের বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, লালন শাহ ব্রিজ এলাকায় প্রায়ই অতিরিক্ত গতিতে যানবাহন চলাচল করে এবং পর্যাপ্ত নজরদারি না থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে কাভার্ড ভ্যান ও ট্রাকের অনিয়ন্ত্রিত গতি সাধারণ মানুষের পাশাপাশি দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের জন্যও প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে।

নিহত পুলিশ পরিদর্শক মুজহার ও এসআই কায়েম ছিলেন অত্যন্ত সৎ, নিষ্ঠাবান ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা। সহকর্মীরা জানান, তারা নিয়মিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সদা তৎপর ছিলেন। এমন দুজন অভিজ্ঞ পুলিশ সদস্যের আকস্মিক মৃত্যুতে সহকর্মীদের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণও গভীরভাবে শোকাহত।

কুষ্টিয়া হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু ওবায়েদ হোসেন জানান, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং কাভার্ড ভ্যানটিকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলেছে—সড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর এবং ভারী যানবাহনের চালকদের নিয়ন্ত্রণে কতটা কঠোর হচ্ছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। দায়িত্ব পালনে বের হয়ে যদি পুলিশ সদস্যরাই নিরাপদ না থাকেন, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?