মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১৮ বছর বয়সী তরুণ

বন্ধুদের আমন্ত্রণে খেজুরের রস পান করতে যাওয়ার আনন্দময় পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত রূপ নিল হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডিতে। মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৮ বছর বয়সী তরুণ মো. তামিম। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তার সঙ্গে থাকা আরও দুই বন্ধু। একটি স্বপ্নময় ভোর মুহূর্তেই শোকে ঢেকে গেল একটি পরিবার ও একটি জনপদ।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) ভোরে ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের কলেজগেট এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত তামিম গাজীপুরের পুবাইল থানার মারুফা গ্রামের বাসিন্দা নিজাম উদ্দিনের ছেলে। তার সঙ্গে থাকা দুই বন্ধুর নাম ও ঠিকানা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি; তারা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, ভোর আনুমানিক পাঁচটার দিকে তামিম তার দুই বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে মারুফা গ্রাম থেকে গাজীপুরের উদ্দেশে রওনা দেন। উদ্দেশ্য ছিল—এক বন্ধুর বাড়িতে খেজুরের রস পান করা। শীতের ভোরে খেজুরের রস উপভোগের এই ছোট্ট আনন্দের পরিকল্পনাই ছিল তাদের যাত্রার কারণ। তামিম নিজেই মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন।

যাত্রাপথে কলেজগেট এলাকায় পৌঁছালে পেছন দিক থেকে দ্রুতগতির একটি গাড়ি তাদের মোটরসাইকেলকে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় তামিমের সঙ্গে থাকা দুই বন্ধু সড়কের দুই পাশে ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আঘাত ছিল এতটাই ভয়াবহ যে তামিম ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহিন খান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। আহত দুই বন্ধুকে প্রথমে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি; পরে স্থানীয় পথচারীরা তাদের উদ্ধার করে উত্তরার একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলেও চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

ওসি আরও বলেন, দুর্ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং জড়িত গাড়িটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, ভোরবেলা সড়কে যানবাহনের চাপ তুলনামূলক কম থাকলেও কিছু গাড়ি অতিরিক্ত গতিতে চলাচল করে। নিয়ন্ত্রণহীন গতিই এ ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার মূল কারণ বলে তারা মনে করেন।

এই দুর্ঘটনায় তামিমের পরিবারে নেমে এসেছে গভীর শোক। প্রতিবেশী ও স্বজনদের চোখে ছিল অশ্রু। একটি সাধারণ ভোরের আনন্দময় যাত্রা যে এভাবে চিরবিদায়ের গল্প হয়ে উঠবে, তা কেউ কল্পনাও করেনি। খেজুরের রসের সেই আমন্ত্রণ আজ রয়ে গেল বেদনার স্মৃতি হয়ে।