সৌদি আরবের আবহায় ট্র্যাজেডি: লরির ধাক্কায় নিহত বাংলাদেশি প্রবাসী

সৌদি আরবের আসির প্রদেশের আবহা শহরের মাহাইল এলাকায় গত বৃহস্পতিবার রাত বাংলাদেশ সময় প্রায় ১০টার দিকে একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার প্রবাসী নুরুল আলম। এই দুর্ঘটনা স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটিতেও গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে।

৩৫ বছর বয়সী নুরুল আলম লোহাগাড়া উপজেলার আধুনগর ইউনিয়নের আকবরপাড়া এলাকার অধিবাসী। তাঁর বাবা সালেহ আহমদ। ১০ বছর আগে জীবিকার সন্ধানে তিনি সৌদি আরবে যান এবং সেখানে খেলনার ব্যবসায় যুক্ত হন। নিজ উদ্যোগে একটি মাইক্রোবাস চালিয়ে বিভিন্ন দোকানে খেলনা সরবরাহ করতেন। স্থানীয়দের মতে, নুরুল আলম ছিলেন শ্রমশীল, দায়িত্বশীল ও পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী।

দুর্ঘটনার রাতে তিনি নিয়মিত সরবরাহ শেষে বাড়ি ফেরার পথে ছিলেন। মাহাইল এলাকায় হঠাৎ পেছন থেকে একটি লরি তাঁর মাইক্রোবাসটিকে ধাক্কা দিলে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চূর্ণবিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। স্থানীয় নিরাপত্তা ও উদ্ধার কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করেন। প্রচণ্ড আঘাতের কারণে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।

আধুনগর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবুল কালাম গণমাধ্যমকে জানান, নুরুল আলমের আকস্মিক মৃত্যুতে তার স্ত্রী ও তিন সন্তান দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, “পরিবার মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নিতে চাইছে। নুরুল আলম পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন, তাই তাদের পাশে দাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।”

স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটি ও প্রবাসী সামাজিক সংগঠনগুলোও নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। তারা দুর্ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা বিষয়ক সতর্কতা বৃদ্ধি করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরেছেন।

নিচের টেবিলে নুরুল আলমের ব্যক্তিগত ও দুর্ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্য দেওয়া হলো:

বিষয়তথ্য
নিহতনুরুল আলম (৩৫)
ঠিকানাআকবরপাড়া, আধুনগর, লোহাগাড়া
পেশাখেলনার ব্যবসা ও সরবরাহ
দুর্ঘটনার ধরনমাইক্রোবাসে লরির ধাক্কা
মৃত্যুঘটনাস্থলেই
পরিবারস্ত্রী ও তিন সন্তান

প্রবাসী ও স্থানীয়রা এ দুর্ঘটনার ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও দৃঢ় করার আহ্বান জানিয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষও এই ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।