ওসি মাইনুল বদলিতে জাজিরায় স্বস্তির ঢেউ, দুর্নীতিতে কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ

শরীয়তপুরের জাজিরা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মাইনুল ইসলামের বদলির খবর প্রকাশের পর স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে গ্রেপ্তার বাণিজ্য, রিমান্ড দেখিয়ে টাকা আদায়, নিরীহ মানুষকে রাজনৈতিক তকমা দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ বিভিন্ন অনিয়মে তিনি কোটি টাকার বেশি হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। তার বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরি গ্রহণ ও তদন্ত কার্যক্রমেও নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে এলাকায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। বদলির খবরের পর ফেসবুকে অসংখ্য মানুষ স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। কেউ লিখেছেন—তিনি জাজিরায় আসা সবচেয়ে খারাপ ওসি, কেউ বলেছেন—আলহামদুলিল্লাহ, এখন মানুষ শান্তিতে থাকবে। কেউ বলেছেন—তিনি জাজিরা থেকে কোটি টাকা তুলেছেন। অনেকেই তার সম্পদের তদন্ত দাবি করেছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ওসি মাইনুল ইসলামের ভয়ে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী এমনকি রাজনৈতিকরাও মুখ খুলতে সাহস পাননি। শরীয়তপুর জেলা জজ কোর্টের এক আইনজীবী জানিয়েছেন, টাকা না দেওয়ায় এক বিএনপি নেতাকে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ পরিচয়ে চালান দেওয়া হয়েছিল। টাকার বিনিময়ে আসামিদের ছেড়ে দেওয়া, বিএনপি নেতাকর্মীদের আওয়ামী লীগ পরিচয়ে গ্রেপ্তার করে পরে আলোচনার মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনাও রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের দাগী নেতারা মাসোহারা দিয়ে এলাকায় অবাধে চলাফেরা করতেন। গোয়েন্দা সূত্র জানায়, জাজিরার পর তিনি নড়িয়া থানায় বদলি হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, কারণ সেখানে ধনী প্রবাসী মানুষের সংখ্যা বেশি।

তার বদলির পর স্থানীয়রা মনে করছেন, জাজিরায় ন্যায়বিচারের পথ সহজ হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সরকার লটারির মাধ্যমে ৫২৭ থানার ওসিকে বদলি করেছে। নতুন ওসি আসায় এলাকাবাসীর প্রত্যাশা—আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত হবে, সেবার মান বাড়বে এবং থানার জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।

ওসি মাইনুল ইসলাম ফোনে বলেন, “যারা লিখেছে তাদের জিজ্ঞাসা করুন, আমি আরও এক সপ্তাহ এখানে থাকব”—এ কথা বলেই কল কেটে দেন।

জিলাইভ২৪/এসএস