গাব্বা টেস্ট শুরুর মাত্র এক দিন আগে অস্ট্রেলিয়া দলে তৈরি হয়েছে অদ্ভুত এক পরিস্থিতি। প্যাট কামিন্স কি হঠাৎ করেই দলে ফিরবেন? তিনি কি আবার নেতৃত্বও নেবেন? স্টিভেন স্মিথের এক মন্তব্যেই নতুন করে জল্পনা ঘনীভূত হয়েছে। প্রশ্ন করা হয়েছিল—যদি কামিন্স হঠাৎ ফিরে আসেন, তাহলে কি স্মিথই নেতৃত্ব দেবেন? জবাবে স্মিথ খুব সোজাসাপ্টা বললেন, “আমি মনে করি না।”
গত দেড় সপ্তাহ ধরে কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ না থাকায় স্বাভাবিকভাবেই অস্ট্রেলিয়ার দল নির্বাচনের আলাপ চলছে জোরেশোরে। যদিও শুরুতে ধারণা ছিল অ্যাডিলেড টেস্টই কামিন্সের সম্ভাব্য ফেরার জায়গা। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে স্কোয়াডেও ছিলেন না। তবুও নির্বাচকরা দরজা পুরোপুরি বন্ধ করেননি।
বুধবার স্মিথ সংবাদমাধ্যমের সামনে আসার সময়ও অস্ট্রেলিয়া টিম ম্যানেজমেন্ট এখনও উইকেট দেখে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অপেক্ষায় ছিল। দুপুরের পর মাঠের ঘাস আরেকবার কাটা হয়, কিন্তু দূর থেকে দেখলে উইকেটের সবুজ আভা খুব একটা বদলায়নি। এরপর স্মিথ ও প্রধান নির্বাচক জর্জ বেইলি উইকেট পর্যবেক্ষণে নামেন। তাদের সঙ্গে কথা বলেন কিউরেটরও—ঘাস কতটা আছে, পিচ কতটা শক্ত, কতটা শুকনো—সবই খুঁটিয়ে দেখা হয়।
আরও কিছুক্ষণ পর দেখা যায় প্যাট কামিন্স এবং কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ডও উইকেটে হাজির। দু’জন একে অপরকে আলিঙ্গন করেন, কিন্তু সেই আলিঙ্গনের অর্থ কী—তা কেউই নিশ্চিত করে বলতে পারে না। দর্শকরা দেখেছেন, কিন্তু অস্ট্রেলিয়া দল যে খবর লুকোতে চাইলে পারে—এটাই স্বাভাবিক।
একপর্যায়ে গাব্বা স্টেডিয়াম হঠাৎই ফায়ার অ্যালার্মে খালি করা হয়। পরে সংবাদ আসে—অস্ট্রেলিয়া তাদের একাদশ ঘোষণা করবে টসের সময়। অর্থাৎ, কামিন্স খেলবেন কি না, সেই উত্তেজনা আরও টেনে রাখল অস্ট্রেলিয়া।
স্টিভেন স্মিথ অবশ্য বলছেন, নেটে কামিন্স দারুণ ছন্দে আছেন। স্কট বোল্যান্ডও বলেন, “নেটে ওকে দেখে মনে হয়েছে বিশ্বের সেরা পেসারদের এক জন আবার পুরো ফর্মে ফিরছে।” তবুও স্মিথ মনে করিয়ে দেন—নেটের সঙ্গে আসল ম্যাচের তীব্রতার পার্থক্য আকাশ-পাতাল। কামিন্সের শরীর ম্যাচের লোড সামলাতে প্রস্তুত কি না, সেটাই মূল প্রশ্ন।
এখন মূল ধাঁধা হলো—যদি কামিন্স খেলেন, তিনি কাকে বাদ দেবেন? আগের ধারণা ছিল—শুধুমাত্র অল-পেস আক্রমণে খেললে কামিন্সকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব, সেক্ষেত্রে বাদ পড়তে পারেন নাথান লায়ন। গোলাপি বলে লায়নের সাম্প্রতিক রেকর্ড খুব একটা ভালো নয়। তবে গাব্বার কঠিন পিচে লায়নের অভিজ্ঞতা অস্ট্রেলিয়া উপেক্ষা করবে কি না তা নিয়ে সংশয় থেকেই যায়।
আরেকটি সম্ভাবনা ব্রেনডন ডগেটের জায়গায় কামিন্সের ফেরা। কিন্তু তিনজন মূল পেসারের সঙ্গে তাকে খেলালে workload-এর ঝুঁকি থেকেই যায়। ক্যামেরন গ্রিন আগের ম্যাচে খুব কম বোলিং করেছিলেন—এটিও দলে হিসাব-নিকাশের অংশ।
এদিকে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক বেন স্টোকসও স্বীকার করেছেন, তিনি জানেন না কাল মাঠে টসের সময় কাকে সামনে পাবেন—স্মিথ নাকি কামিন্স।
দলে ওপেনার উসমান খাজা না থাকায় ব্যাটিং লাইনআপে পরিবর্তন নিশ্চিত। ধারণা করা হচ্ছে, জশ ইংলিস মধ্যক্রমে আসবেন এবং ট্রাভিস হেড ওপেনিংয়ে থাকবেন। ফলে বউ ওয়েবস্টারের দুর্ভাগ্য আবারও চলতে পারে।
সব মিলিয়ে, পুরো ক্রিকেটবিশ্বের নজর এখন একটাই প্রশ্নে—এ সব কি কেবল ধোঁয়াশা? নাকি সত্যিই কামিন্সকে ফেরানোর আলোচনা চলছে? টসের সময়ই উন্মোচিত হবে রহস্য।
