জেলেনস্কির শীর্ষ সহকারী ছাড়লেন দায়িত্ব

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শুক্রবার ঘোষণা করেছেন যে, তার প্রধান সহকারী আন্দ্রিই ইয়ারমাক পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগের পেছনে প্রেক্ষাপট হিসেবে রয়েছে সম্প্রতি ইয়ারমারকের অ্যাপার্টমেন্টে পরিচালিত দুর্নীতিবিরোধী অনুসন্ধান, যা ন্যাশনাল অ্যান্টি করাপশন ব্যুরো (নাবু) এবং আরেকটি সংস্থার নেতৃত্বে আদালতের অনুমোদন নিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।

জেলেনস্কি ভিডিও ভাষণে বলেছেন, “ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের দপ্তর পুনর্গঠিত হবে এবং তার প্রধান সহকারী আন্দ্রিই ইয়ারমাক পদত্যাগ করেছেন। শনিবার আমরা সম্ভাব্য নতুন প্রধান নিয়ে আলোচনা করব।” ইয়ারমারকের পদত্যাগের ফলে সরকারের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমে পরিবর্তন আনার পথে প্রথম বড় পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, জেলেনস্কির ঘনিষ্ঠ মহলে জড়িয়ে পড়া একটি বড় দুর্নীতিকাণ্ড সম্প্রতি দেশজুড়ে যথেষ্ট আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। যদিও সরাসরি কোনো অভিযোগ ইয়ারমারক বা প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ওঠেনি, সমালোচনার চাপ এবং রাজনৈতিক চাহিদার কারণে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত আসে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পদত্যাগ ইয়ারমারকের ব্যাক্তিগত দায়বদ্ধতার পাশাপাশি প্রেসিডেন্টের দুর্নীতিবিরোধী ইমেজ বজায় রাখার প্রচেষ্টা। এটি ইউক্রেনের রাজনৈতিক দৃশ্যপটেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে দেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির ওপর। পরবর্তী সময়ে নতুন প্রধান নিয়োগ এবং প্রশাসনিক পুনর্গঠন দেশের দুর্নীতিবিরোধী প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করবে।

এই ঘটনা প্রকাশ করছে যে, উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের দায়িত্বপ্রাপ্তি এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের স্বচ্ছতা আজকের ইউক্রেনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশজুড়ে দুর্নীতিবিরোধী বার্তা পাঠানো হচ্ছে এবং নাগরিকদের মধ্যে প্রশাসনের প্রতি বিশ্বাস ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা করা হচ্ছে।