যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কঠোর ভাষায় সতর্ক করে বলেছেন, কোনো নতুন সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব না হলে মার্কিন সামরিক বাহিনী আবারও হামলা শুরু করতে সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত রয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, চলমান যুদ্ধবিরতির সময়কালকে যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের কাজে ব্যবহার করেছে। তাঁর ভাষায়, এই সময়ের মধ্যে মার্কিন বাহিনী গোলাবারুদ এবং অন্যান্য যুদ্ধ সরঞ্জাম পুনরায় সংগ্রহ ও মজুত করেছে। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রাগার পূর্ণ অবস্থায় রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সামরিক সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, নির্দেশ পাওয়া মাত্রই মার্কিন সেনাবাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণ শুরু করতে প্রস্তুত। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সামরিক বাহিনী আবারও সক্রিয় যুদ্ধে ফিরে যেতে প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে। তিনি এটিও উল্লেখ করেন যে যুক্তরাষ্ট্র যেমন এই সময়কে প্রস্তুতি শক্তিশালী করার কাজে ব্যবহার করেছে, ইরানও কিছু পরিমাণে নিজেদের প্রস্তুতি নিয়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতার তুলনায় তা অনেক কম গুরুত্বপূর্ণ।
এই সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প মূলত সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমঝোতা না হলে সামরিক সংঘাতে ফেরার সম্ভাবনা সম্পর্কেই কঠোর বার্তা দেন। তাঁর বক্তব্যে ইরানের প্রতি চাপ বাড়ানোর ইঙ্গিত স্পষ্টভাবে উঠে আসে।
নিচের টেবিলে সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের মূল বক্তব্যগুলো সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
| বিষয় | ট্রাম্পের বক্তব্য |
|---|---|
| ইরানের প্রতি সতর্কতা | নতুন সমঝোতা না হলে সামরিক হামলা সম্ভব |
| সামরিক প্রস্তুতি | মার্কিন বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত |
| যুদ্ধবিরতির ব্যবহার | অস্ত্র ও গোলাবারুদ পুনরায় মজুত করা হয়েছে |
| অস্ত্রাগারের অবস্থা | পর্যাপ্ত অস্ত্র ও সরঞ্জাম মজুত রয়েছে |
| ইরানের প্রস্তুতি | কিছু প্রস্তুতি নিয়েছে, তবে তুলনামূলকভাবে কম |
| সামগ্রিক অবস্থান | নির্দেশ পেলে দ্রুত আক্রমণে সক্ষমতা |
ট্রাম্পের এই বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নীতির সম্ভাব্য কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত পাওয়া যায় বলে সাক্ষাৎকারের প্রেক্ষাপট থেকে বোঝা যায়। তিনি বারবার উল্লেখ করেন যে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত ফিরে যাওয়ার সক্ষমতা রাখে এবং প্রয়োজন হলে তা বাস্তবায়ন করতেও প্রস্তুত।
সাক্ষাৎকারে আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমঝোতা এবং সেই সমঝোতা ব্যর্থ হলে সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তুতি।
