বুধবার (২১ অক্টোবর) সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ৪১ দশমিক ২ ওভারে মাত্র ১৬০ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। জবাবে রহমত শাহর অপরাজিত ৬৭ রানের দায়িত্বশীল ইনিংসে ভর করে ৩৫ দশমিক ৩ ওভারেই ৩ উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় আফগানিস্তান।
ম্যাচের আগে বাংলাদেশের সামনে ফাইনালে ওঠার কঠিন সমীকরণ ছিল। আগের ম্যাচে জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানে হেরে যাওয়ায় আফগানিস্তানকে অন্তত ৪১ রানের ব্যবধানে হারানো প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের। সেই হিসাবে ১৬০ রানের সংগ্রহ নিয়ে আফগানদের ১১৯ রানের মধ্যে আটকে রাখতে হতো। কিন্তু বোলাররা সেই লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হন। আফগানিস্তানের সংগ্রহ ১১৯ রান ছাড়িয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বাংলাদেশের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায়।
এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়। তবে ইনিংসের শুরু থেকেই আফগান বোলারদের তোপের মুখে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং বিভাগ। দলীয় মাত্র ৬ রানের মধ্যেই সাজঘরে ফেরেন দুই ব্যাটার তানজিদ হাসান তামিম ও সৌম্য সরকার।
এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত ও অধিনায়ক হৃদয়ও দ্রুত আউট হলে মাত্র ২৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চরম বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। এমন পরিস্থিতিতে দলের হাল ধরেন পারভেজ হোসেন ইমন ও সাইফ হাসান।
পঞ্চম উইকেটে দুজনের ৯৩ রানের জুটিতে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। ধৈর্য ধরে ব্যাটিং করে ইমন ৯৬ বলে ৭০ রান সংগ্রহ করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল পাঁচটি চার ও দুটি ছক্কা। অন্যদিকে, সাইফ হাসান ৮২ বলে ৪১ রান করেন।
তবে এই জুটি ভাঙার পর আবারও ছন্দ হারায় বাংলাদেশের ব্যাটিং। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়তে থাকায় বড় সংগ্রহ গড়ার সম্ভাবনা নষ্ট হয়ে যায়। শেষ পাঁচ উইকেটে মাত্র ৩৯ রান যোগ করতে পারে দলটি।
আফগানিস্তানের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন অভিজ্ঞ লেগ স্পিনার রশিদ খান। ৩১ রান খরচায় চার উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে বড় ধস নামান তিনি। বিশেষ করে ইনিংসের শেষ দিকে তাঁর কার্যকর বোলিংয়ের সামনে বাংলাদেশের ব্যাটাররা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেননি। ইয়ামিন আহমদজাই ও আজমতউল্লাহ ওমরজাই নেন দুটি করে উইকেট।
১৬১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আফগানিস্তানের শুরুটাও পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক ছিল না। বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদ দ্রুত ফিরিয়ে দেন রহমানউল্লাহ গুরবাজ ও সেদিকউল্লাহ আতালকে। সপ্তম ওভারের মধ্যে ৩৯ রানে ২ উইকেট হারায় আফগানিস্তান।
তবে শুরুর সেই ধাক্কা কাটিয়ে দ্রুতই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় আফগানরা। রহমত শাহ ও ইব্রাহিম জাদরান তৃতীয় উইকেটে ৫৬ রানের জুটি গড়ে দলকে এগিয়ে নেন। ইব্রাহিম ৩৪ রান করে মোস্তাফিজুর রহমানের শিকার হলেও রহমত অবিচল থাকেন।
এরপর হাশমতউল্লাহ শহীদীকে সঙ্গে নিয়ে আর কোনো বিপর্যয় ঘটতে দেননি রহমত। দুজনের অবিচ্ছিন্ন ৬৬ রানের জুটিতে সহজ জয় পায় আফগানিস্তান। রহমত শাহ ৯০ বলে ৬৭ রান করে অপরাজিত থাকেন। শহীদী অপরাজিত থাকেন ৩৬ রানে।
বাংলাদেশের পক্ষে তাসকিন আহমেদ দুটি ও মোস্তাফিজুর রহমান একটি উইকেট নেন। তবে আফগান ব্যাটারদের নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিংয়ের সামনে তাঁদের প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ফল বদলাতে পারেনি। ৮৭ বল হাতে রেখেই সাত উইকেটের জয় নিশ্চিত করে আফগানিস্তান।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের দুটি ম্যাচেই জয় পেল আফগানিস্তান। এর আগে জিম্বাবুয়েকে ১৫৮ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছিল তারা। দুই ম্যাচে ব্যাটিং ও বোলিংয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখিয়ে ফাইনালের আগে নিজেদের শক্তিশালী অবস্থানের জানান দিয়েছে দলটি।
অন্যদিকে, জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে টানা দুই ম্যাচ হেরে কোনো জয় ছাড়াই সিরিজ শেষ করতে হলো বাংলাদেশকে। বিশেষ করে দুই ম্যাচেই ব্যাটিং বিপর্যয় দলের দুর্বলতাকে সামনে নিয়ে এসেছে। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বড় জুটি গড়তে না পারা এবং ভালো অবস্থান থেকে ইনিংস শেষ করতে ব্যর্থ হওয়া বাংলাদেশের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আগামী শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল। সেখানে শিরোপার লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ে।
বাংলাদেশের জন্য এই সফরের ওয়ানডে সিরিজ শেষ হলো প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতার হতাশা নিয়ে। সামনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভালো ফল পেতে হলে ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতা ফেরানো, চাপের মুহূর্তে দায়িত্বশীল পারফরম্যান্স এবং দলীয় সমন্বয় বাড়ানোর বিকল্প নেই।









