৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী মির্জা আব্বাস

ঢাকা-৮ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ। তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এনসিপির প্রার্থী মোহাম্মদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ৫ হাজার ২৩৯ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। শুক্রবার ভোররাত পৌনে ৪টার দিকে ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফল ঘোষণা করেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা-৮ আসনের ১০৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১০৮টিতে সরাসরি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। একটি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত বা বাতিল হওয়ার কারণে সেখানে ভোট হয়নি। তবুও অধিকাংশ কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে বলে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

প্রাপ্ত ফলাফলে দেখা যায়, বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাস সরাসরি ভোটে পেয়েছেন ৫৬ হাজার ৫৫২ ভোট। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ২ হাজার ৮১৪টি পোস্টাল ভোট। সব মিলিয়ে তার মোট প্রাপ্ত ভোট দাঁড়িয়েছে ৫৯ হাজার ৩৬৬।

অন্যদিকে, এনসিপির প্রার্থী মোহাম্মদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী সরাসরি ভোটে পেয়েছেন ৫১ হাজার ৫৭২ ভোট এবং পোস্টাল ভোট পেয়েছেন ২ হাজার ৫৫৫টি। এতে তার মোট ভোট দাঁড়ায় ৫৪ হাজার ১২৭।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, দুই প্রধান প্রার্থীর মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল ঘনিষ্ঠ। তবে শেষ পর্যন্ত ৫ হাজার ২৩৯ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিজয় নিশ্চিত করেন মির্জা আব্বাস।

প্রার্থীদের প্রাপ্ত ভোটের চিত্র

প্রার্থীর নামদলসরাসরি ভোটপোস্টাল ভোটমোট ভোট
মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদবিএনপি৫৬,৫৫২২,৮১৪৫৯,৩৬৬
মোহাম্মদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীএনসিপি৫১,৫৭২২,৫৫৫৫৪,১২৭
কেফায়েত উল্লাহইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ১,৪৩৬১,৪৩৬
মেঘনা আলমগণঅধিকার পরিষদ৬০৮৬০৮

এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৭৫ হাজার ৪৭৪ জন। এর মধ্যে ভোট প্রদান করেছেন ১ লাখ ২০ হাজার ৪৮৪ জন ভোটার। মোট বাতিল ভোটের সংখ্যা ২ হাজার ৮১৭। ফলে বৈধ ভোটের সংখ্যা দাঁড়ায় ১ লাখ ১৭ হাজার ৬৬৭।

পোস্টাল ভোটার ছিলেন ৮ হাজার ৯৯২ জন। তাদের মধ্যে ৬ হাজার ১২টি ভোট গ্রহণ করা হয়, যার মধ্যে ৩২০টি বাতিল হয়েছে। পোস্টাল ভোটও চূড়ান্ত ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে, বিশেষত দুই প্রধান প্রার্থীর ব্যবধান নির্ধারণে।

নির্বাচন সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষকদের মতে, ঢাকা-৮ আসনে ভোটের হার তুলনামূলকভাবে সন্তোষজনক ছিল। ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া ও ফলাফল ঘোষণায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বচ্ছতা বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তবে একটি কেন্দ্রে ভোট না হওয়ার বিষয়টি নিয়ে ভবিষ্যতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সামগ্রিকভাবে, ঢাকা-৮ আসনের এই ফলাফল রাজধানীর রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।