,

১৬ মেগাপাসকেল পরীক্ষায় সাফল্য, রূপপুরে পরের ধাপ

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। উৎপাদন শুরুর সময় পিছিয়ে দেওয়ার অন্যতম কারণ হয়ে ওঠা প্রেসার অপারেটেড রিলিফ ভাল্ব (পিওআরভি)-এর উচ্চচাপ পরীক্ষা ১৬ মেগাপাসকেল চাপে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাত ২টার দিকে পরীক্ষাটি শেষ হয় বলে রোসাটম-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে।

পরীক্ষাটি শুধু একটি ভাল্বের কার্যকারিতা যাচাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। প্রধান নিয়ন্ত্রণকক্ষ (এমসিআর) এবং জরুরি নিয়ন্ত্রণকক্ষ (ইসিআর)—দুই জায়গা থেকেই সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা পরিচালনা করে ভাল্বের বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হয়। পরীক্ষার সময় ভাল্বের খোলা ও বন্ধ হওয়ার প্রতিক্রিয়া, সতর্কসংকেত, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার সাড়া এবং সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়াগত পরামিতিগুলো পরীক্ষা করা হয়েছে।

প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, প্রতিটি পরীক্ষার ফলাফল যাচাই করেই পরবর্তী ধাপে যাওয়া হচ্ছে। ১৬ মেগাপাসকেলের পরীক্ষার পর এখন প্রায় ১৮ মেগাপাসকেল চাপে ভাল্বটির আরও একটি পরীক্ষা করার প্রস্তুতি চলছে। অর্থাৎ, এক ধাপের পরীক্ষায় সাফল্য পাওয়ার পরও কমিশনিং প্রক্রিয়া নির্ধারিত কারিগরি ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের মধ্য দিয়েই এগোবে।

রূপপুরের প্রথম ইউনিটে ভাল্বের কারিগরি সমস্যার কারণে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময়সূচি পিছিয়ে যায়। সেপ্টেম্বরের শুরুতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম জানিয়েছিলেন, গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পিওআরভি নিয়ে সমস্যা দেখা দেওয়ায় নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। পরবর্তী সময়ে সমস্যাগুলো সমাধানে রাশিয়ার বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করা হয়।

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপদ পরিচালনায় চাপ নিয়ন্ত্রণ ও অতিরিক্ত চাপ নির্গমনের সঙ্গে যুক্ত ভাল্বগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই এসব যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা যাচাই কমিশনিংয়ের একটি সংবেদনশীল ধাপ। পরীক্ষার সময় নির্ধারিত নিরাপত্তা শর্ত ও অনুমোদিত পদ্ধতি অনুসরণ করেই প্রতিটি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

রূপপুরের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং শুরু হয়েছিল ২৮ এপ্রিল ২০২৬। এর আগে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বিএইআরএ) প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য কমিশনিং লাইসেন্স দেয়। লাইসেন্স পাওয়ার আগে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন কারিগরি পরীক্ষা ও প্রস্তুতিমূলক কাজ সম্পন্ন করে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেগুলো পর্যালোচনা করে।

রোসাটমের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ইউনিটে ১৬৩টি নিউক্লিয়ার ফুয়েল অ্যাসেম্বলি লোড করার প্রক্রিয়া শুরু হয় এপ্রিলের শেষ দিকে। জ্বালানি লোডিংয়ের পরবর্তী ধাপে রিঅ্যাক্টরকে প্রথম ক্রিটিক্যালিটির দিকে নেওয়া, ধাপে ধাপে ক্ষমতা বাড়ানো এবং শেষ পর্যন্ত উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা।

রূপপুর প্রকল্পে দুটি ইউনিট নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১,২০০ মেগাওয়াট এবং এতে ভিভিইআর-১২০০ প্রযুক্তির রিঅ্যাক্টর ব্যবহার করা হয়েছে। প্রথম ইউনিটের কমিশনিং শেষ করে ধাপে ধাপে বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে যাওয়াই এখন প্রকল্প কর্তৃপক্ষের প্রধান লক্ষ্য।

সাম্প্রতিক ভাল্ব পরীক্ষার সাফল্য সেই প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হলেও, এর পরও আরও কয়েকটি কারিগরি ও নিরাপত্তা পরীক্ষা বাকি রয়েছে। ১৮ মেগাপাসকেল চাপে পরবর্তী পরীক্ষা এবং তার ফলাফল যাচাইয়ের পরই কমিশনিংয়ের পরবর্তী ধাপ নির্ধারিত হবে।

এর আগে ভাল্বের ত্রুটির কারণে প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময়সূচি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। এখন ১৬ মেগাপাসকেল পরীক্ষায় সফলতার পর প্রকল্পটি আবারও পরবর্তী যাচাই-বাছাইয়ের ধাপে এগোচ্ছে। তবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে পরবর্তী পরীক্ষাগুলোর ফলাফলই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।