সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক কোটির বেশি শিক্ষার্থীর বার্ষিক পরীক্ষা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। চাকরির শুরুতে ১১তম বেতন গ্রেডসহ তিন দফা দাবিতে গত মঙ্গলবার থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাংশের সহকারী শিক্ষকরা পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করছেন। এতে দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম আবারও বন্ধ হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন আন্দোলন চললেও সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদের ডাকে আগামীকাল পর্যন্ত কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে। দাবি পূরণ না হলে তারা বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন এবং ১১ ডিসেম্বর থেকে লাগাতার অনশনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
অন্যদিকে, দশম গ্রেডসহ তিন দফা দাবি বাস্তবায়ন না হলে ৩০ নভেম্বর থেকে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ, যা চারটি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত। তবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সহকারী শিক্ষকদের ১৩তম গ্রেড থেকে সরাসরি দশম গ্রেডে উন্নীত করা সম্ভব নয়। এতে ৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকা বার্ষিক পরীক্ষা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম মূলত সহকারী শিক্ষকনির্ভর। বর্তমানে মোট শিক্ষক সংখ্যা ৩ লাখ ৮৪ হাজার ৯৮১ জন, যার মধ্যে প্রধান শিক্ষক প্রায় ৩৫ হাজার এবং বাকিরা সহকারী শিক্ষক। দেশে প্রাথমিক স্তরে মোট শিক্ষার্থী ১ কোটি ৯৭ লাখ ১৩ হাজার ৬৮৫ জন, এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ছে ১ কোটি ৯ লাখ ৮৫ হাজার ৮১৫ জন শিক্ষার্থী।
জানা গেছে, সহকারী শিক্ষকদের দশম গ্রেডে উন্নীত করলে বছরে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হবে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা। ১১তম গ্রেডে উন্নীত করলে ব্যয় হবে প্রায় ৮৩১ কোটি ৯১ লাখ টাকা। বর্তমানে এসএসসি ও এইচএসসি পাস প্রায় ৬৬ হাজার শিক্ষক কর্মরত থাকায় দশম গ্রেড বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি হয়েছে। আগামী চার বছরে প্রায় ২২ হাজার শিক্ষক অবসরে যাবেন, আর সব শিক্ষক অবসরে যেতে আরও প্রায় ১০ বছর লাগবে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
সহকারী শিক্ষকদের আন্দোলনের অংশ হিসেবে ৮ নভেম্বর পুলিশের হামলায় আহত শিক্ষকদের চিকিৎসা, নিহত শিক্ষিকা ফাতেমা আক্তারের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ ও পূর্ণ পেনশনের দাবিও তোলা হয়েছে। সংগঠনগুলো জানিয়েছে, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ও পরীক্ষা গ্রহণে অংশ নেবেন না।
জিলাইভ/টিএসএন
