খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২ই জুলাই ২০২৬, ১২:৪১ এএম

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের এক স্নায়ুক্ষয়ী ও কাঁপন ধরানো ম্যাচে দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়েছে ইংল্যান্ড। ম্যাচের শুরুতেই গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ার পরও শেষ মুহূর্তের চোখধাঁধানো প্রত্যাবর্তনে ডিআর কঙ্গোকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়েছে থ্রি লায়ন্সরা। দলের এই মহানাটকীয় জয়ের নায়ক আর কেউ নন, স্বয়ং অধিনায়ক হ্যারি কেইন। তাঁর ১১ মিনিটের ব্যবধানে করা জাদুকরী জোড়া গোলেই টুর্নামেন্টের শেষ ষোলো বা নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে ইংলিশরা। আগামী ৬ জুলাই শেষ ষোলোর হাইভোল্টেজ ম্যাচে মেক্সিকোর মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড।
ম্যাচের শুরুটা ইংল্যান্ডের জন্য ছিল এক বড় ধাক্কা। খেলা শুরুর পরপরই ইংলিশ রক্ষণভাগের অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে ডিআর কঙ্গোকে এগিয়ে নেন বেনি সিপেঙ্গা। ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে ইংল্যান্ড। প্রথমার্ধজুড়ে বুকায়ো সাকা, ফিল ফোডেনরা একের পর এক আক্রমণ সাজালেও কঙ্গোর রক্ষণদূর্গ ভাঙতে পারছিলেন না। কখনো ফিনিশিংয়ের অভাব, আবার কখনো কঙ্গোর গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসি-এনজাউয়ের দারুণ সব সেভের কারণে প্রথমার্ধে জালের দেখা পায়নি থ্রি লায়ন্সরা। ফলে এক গোলের লিড নিয়ে স্বস্তিতে বিরতিতে যায় আফ্রিকার দেশটি।
বিরতি থেকে ফিরে আক্রমণের ধার আরও বাড়িয়ে দেয় ইংল্যান্ড। কোচ গ্যারেথ সাউথগেট মাঝমাঠ ও উইংয়ে গতি বাড়াতে কিছু কৌশলগত পরিবর্তন আনেন। তবে কাঙ্ক্ষিত সেই গোলের জন্য ইংলিশ সমর্থকদের অপেক্ষা করতে হয় ম্যাচের ৭৫তম মিনিট পর্যন্ত। বাঁ দিক থেকে উইঙ্গার অ্যান্থনি গর্ডন ডি-বক্সের ভেতরে থাকা হ্যারি কেইনকে লক্ষ্য করে একটি নিখুঁত উঁচু ক্রস বাড়ান। কঙ্গোর ডিফেন্ডারদের মাথার ওপর দিয়ে লাফিয়ে উঠে এক দর্শনীয় হেডে বল জালে জড়ান ইংলিশ অধিনায়ক। কঙ্গোর গোলরক্ষক লিওনেল এমপাসি ঝাঁপিয়ে পড়ে বলটি স্পর্শ করতে পারলেও এর গতি ও দিক পরিবর্তন করতে পারেননি। ১-১ গোলে সমতা আসতেই গ্যালারিতে থাকা ইংলিশ সমর্থকদের উল্লাসে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো স্টেডিয়াম।
ম্যাচে সমতা ফেরার পরপরই ডিআর কঙ্গোর শিবিরে তৈরি হয় তীব্র আতঙ্ক। রক্ষণভাগ সামলানোর পাশাপাশি মাঝমাঠে নতুন গতি আনতে ৭৬তম মিনিটে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বদলি করেন কঙ্গোর কোচ। মাঠ থেকে তুলে নেওয়া হয় নোয়া মুকাউ এবং প্রথমার্ধে গোল করা বেনি সিপেঙ্গাকে। তাদের পরিবর্তে মাঠে নামানো হয় থিও বংগোন্ডা ও এদো কায়েম্বেকে। কিন্তু ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ততক্ষণে পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নিয়েছে ইংল্যান্ড।
সমতায় ফেরার পর জয়সূচক গোলের খোঁজে কঙ্গোর বক্সে একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে হ্যারি কেইনের দল। ম্যাচের ৮৬তম মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, যা পুরো গ্যালারিকে স্তব্ধ করে দেয়। ডি-বক্সের সামান্য বাইরে কঙ্গোর ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে কেইনকে পাস দেন গর্ডন। বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ক্ষিপ্র গতিতে বক্সের ভেতরে ঢুকে পড়েন কেইন। এরপর ডান পায়ের এক কোণাকুণি জোরালো শটে কঙ্গোর গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বল জালে পাঠান তিনি।
মাত্র ১১ মিনিটের ব্যবধানে কেইনের এই দ্বিতীয় গোলের সুবাদে ২-১ ব্যবধানে লিড নেয় ইংল্যান্ড। ১৫ মিনিট আগেও যারা টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার শঙ্কায় কাঁপছিল, কেইনের একক নৈপুণ্যে তারাই এখন জয়ের বন্দরে। ম্যাচের শেষ দিকে কঙ্গো গোল শোধের চেষ্টা করলেও রেফরির শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে জয়োল্লাসে মাতে ইংল্যান্ড। এই শ্বাসরুদ্ধকর জয়ের পর ফুটবলপ্রেমীদের চোখ এখন ৬ জুলাইয়ের মেক্সিকো ম্যাচের দিকে।
মন্তব্য