,

ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে সংখ্যার রেকর্ড

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ২১১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১২০ রানে অলআউট হয়েছে পাকিস্তান। আর তাতেই ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে টেস্টে দারুণ এক জয় তুলে নেওয়ার পাশাপাশি পাকিস্তানের ব্যর্থতার খাতায় যুক্ত হয়েছে একাধিক বিব্রতকর পরিসংখ্যান। ম্যাচটির ফল শুধু ওয়েস্ট ইন্ডিজের আত্মবিশ্বাসই বাড়ায়নি, টেস্ট ক্রিকেটে দুই দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের চিত্রও স্পষ্ট করেছে।


চতুর্থ ইনিংসে ২১১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তানের হার তাদের টেস্ট ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে পরাজয়ের ঘটনা। এর চেয়ে কম লক্ষ্য ছিল ২০১৭ সালে ব্রিজটাউনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই। সেবার ১৮৮ রানের লক্ষ্য পেরোতে ব্যর্থ হয়েছিল পাকিস্তান। অর্থাৎ, ক্যারিবীয় মাটিতে তুলনামূলক কম রান তাড়া করেও পাকিস্তানের ব্যর্থতার একটি পুনরাবৃত্তি দেখা গেল।


সর্বশেষ ১১ টেস্টে এটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় জয়। এই সময়ের মধ্যে ক্যারিবীয় দলটি সাতটি ম্যাচে হেরেছে এবং দুটি টেস্ট ড্র করেছে। সর্বশেষ জয়টি এসেছিল শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আগের সিরিজে। ফলে পাকিস্তানের বিপক্ষে এই সাফল্য তাদের সাম্প্রতিক টেস্ট রেকর্ডে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হয়ে থাকল।


জেডেন সিলস টেস্ট ক্যারিয়ারে চতুর্থবারের মতো এক ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করেছেন। তাঁর বোলিংয়ের সবচেয়ে বড় তাৎপর্য হলো, ঘরের মাঠে টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে কোনো ওয়েস্ট ইন্ডিজ পেসারের পাঁচ উইকেট নেওয়ার ঘটনা দীর্ঘ বিরতির পর দেখা গেল। ২০১৮ সালে কিংস্টনে বাংলাদেশের বিপক্ষে জেসন হোল্ডারের ছয় উইকেটের পর এটিই এমন প্রথম কীর্তি।


চতুর্থ ইনিংসে পাকিস্তানের ১২০ রানে গুটিয়ে যাওয়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তাদের টেস্ট ইতিহাসের পঞ্চম সর্বনিম্ন ইনিংস। এর আগে ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে পাকিস্তানের সর্বনিম্ন ইনিংসগুলোর মধ্যে ছিল ১৯৮৬ সালে লাহোরে ৭৭, ২০১৭ সালে ব্রিজটাউনে ৮১, ১৯৫৯ সালে লাহোরে ১০৪ এবং ১৯৫৮ সালে ব্রিজটাউনে ১০৬ রান। ১২০ রানে অলআউট হওয়ার মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং বিপর্যয়ের মাত্রাটিও পরিষ্কার হয়েছে।


ক্যারিবীয় অঞ্চলের ক্রিকেটে এই ম্যাচে তৈরি হয়েছে আরও একটি বিরল রেকর্ড। প্রথমবারের মতো কোনো ম্যাচে ৪০টি উইকেটই পেসারদের দখলে গেছে। বিশ্ব ক্রিকেটের ইতিহাসে এর আগে মাত্র পাঁচবার এমন ঘটনা ঘটেছিল। অর্থাৎ, ম্যাচটিতে স্পিনারদের কোনো উইকেট না পাওয়া এবং দুই দলের সব ব্যাটারকে পেসারদের শিকার হওয়া ছিল পরিসংখ্যানের দিক থেকে অত্যন্ত ব্যতিক্রমী।


বিদেশের মাটিতে পাকিস্তানের টেস্ট ব্যর্থতার ধারাও এই ম্যাচের পর আরও দীর্ঘ হয়েছে। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দেশের বাইরে সর্বশেষ টেস্ট জয়ের পর থেকে প্রতিপক্ষের মাঠে টানা আটটি টেস্টে হেরেছে পাকিস্তান। বিদেশের মাটিতে টেস্টে এটাই তাদের ইতিহাসের দীর্ঘতম টানা পরাজয়ের ধারা।

সব মিলিয়ে ম্যাচটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য ছিল আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার একটি বড় সুযোগ। অন্যদিকে পাকিস্তানের জন্য চতুর্থ ইনিংসে ব্যাটিং ব্যর্থতা এবং বিদেশের মাটিতে ধারাবাহিক পরাজয় নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। মাত্র ২১১ রানের লক্ষ্যও যেখানে শেষ পর্যন্ত অধরা থেকে গেল, সেখানে জেডেন সিলসের নেতৃত্বে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেস আক্রমণ ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। 40 উইকেটের সবগুলোই পেসারদের দখলে যাওয়ার বিরল ঘটনাও ম্যাচটিকে টেস্ট ইতিহাসের পরিসংখ্যানের পাতায় আলাদা জায়গা করে দিয়েছে।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।