,

হাম ও উপসর্গে এক দিনে আরও চার শিশুর মৃত্যু

দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময়ে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম নিশ্চিত হওয়ার পর কোনো মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৪২৮ জন।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্ত ও মৃত্যুর এই তথ্য পাওয়া গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২ লাখ ১ হাজার ৬২৫ জনের তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে। একই সময়ে পরীক্ষার মাধ্যমে ২২ হাজার ১১৬ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। অর্থাৎ উপসর্গভিত্তিক হিসাব এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া রোগীর সংখ্যা আলাদাভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন আক্রান্ত ১ হাজার ৪২৮ জনের মধ্যে ১ হাজার ৩৩২ জনকে সন্দেহজনক হাম রোগী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আর পরীক্ষায় ৯৬ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে। ফলে এক দিনে সন্দেহজনক ও পরীক্ষায় নিশ্চিত—দুই শ্রেণি মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪২৮ জনে।

মৃত্যুর সামগ্রিক চিত্রও উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। ১৫ মার্চ থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ৪০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হওয়ার পর মারা গেছে আরও ১০৪ শিশু। দুই হিসাব একত্র করলে এ সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়ায় ১ হাজার ১৪৪।

হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও পরিস্থিতির ব্যাপকতা স্পষ্ট করছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম নিয়ে মোট ১ লাখ ৭৮ হাজার ৯২৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ লাখ ৭১ হাজার ৬৮০ জন। অর্থাৎ বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হলেও এখনো হাসপাতালে ভর্তি রোগী এবং নতুন আক্রান্তের সংখ্যা জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের বিষয়।

নিশ্চিত হাম ও সন্দেহজনক রোগীর হিসাব আলাদা

হামের পরিস্থিতি বিশ্লেষণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মূলত দুটি ধরনের তথ্য আলাদাভাবে তুলে ধরছে। একদিকে রয়েছে উপসর্গের ভিত্তিতে চিহ্নিত সন্দেহজনক রোগী, অন্যদিকে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া হাম রোগী। ফলে প্রতিদিনের আক্রান্ত ও মৃত্যুর পরিসংখ্যান বোঝার ক্ষেত্রে এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ।

সন্দেহজনক রোগীর ক্ষেত্রে হামের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ উপসর্গ ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য বিবেচনায় নেওয়া হয়। আর নিশ্চিত হাম বলতে পরীক্ষার মাধ্যমে সংক্রমণ শনাক্ত হওয়াকে বোঝানো হচ্ছে। তাই উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা একই শ্রেণির পরিসংখ্যান নয়।

হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং পরে শরীরে র‌্যাশ বা ফুসকুড়ি দেখা দেওয়া এ রোগের পরিচিত লক্ষণ। আক্রান্ত ব্যক্তির কাছাকাছি অবস্থান করলে সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। শিশুদের ক্ষেত্রে রোগটি জটিল আকার ধারণ করলে নিউমোনিয়া, পানিশূন্যতা ও অন্যান্য গুরুতর শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বিশেষ করে ছোট শিশু, অপুষ্টিতে ভোগা শিশু এবং যাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা তুলনামূলক দুর্বল, তাদের ক্ষেত্রে জটিলতার ঝুঁকি বেশি হতে পারে। এ কারণে জ্বরের সঙ্গে শরীরে র‌্যাশ, কাশি, চোখ লাল হওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ দেখা দিলে বিষয়টিকে সাধারণ জ্বর হিসেবে উপেক্ষা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

টিকাদান ও দ্রুত শনাক্তকরণ গুরুত্বপূর্ণ

হামের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আক্রান্ত রোগী দ্রুত শনাক্ত করা, প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া এবং সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকানোর ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে টিকাদান কর্মসূচি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা এবং শিশুদের টিকাদানের বিষয়ে পরিবারকে সচেতন রাখাও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১৫ মার্চ থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত পরিসংখ্যান বলছে, কয়েক মাসে হামের উপসর্গ নিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ চিকিৎসা নিয়েছেন এবং তাদের একটি বড় অংশকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। অধিকাংশ রোগী চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও মৃত্যুর ধারাবাহিকতা পরিস্থিতির গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে।

এক দিনে নতুন করে ১ হাজার ৪২৮ জন আক্রান্ত হওয়ার তথ্যও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া, আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের পরামর্শ মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

দেশে হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে তাই চিকিৎসার পাশাপাশি রোগ শনাক্তকরণ, নজরদারি, টিকাদান এবং পরিবার ও কমিউনিটি পর্যায়ে সচেতনতা—সবগুলো উদ্যোগই সমান গুরুত্বপূর্ণ।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।