,

হামে মৃত্যু ও সংক্রমণ উদ্বেগজনক পর্যায়ে

দেশে হাম এবং হামের উপসর্গজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব এখনও জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ রোগ এবং এর উপসর্গে আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৬৯ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে, যা সংক্রমণের বিস্তার এবং স্বাস্থ্যসেবার ওপর বাড়তে থাকা চাপের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৭৯৩ জনে পৌঁছেছে।

সোমবার (২০ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হাম পরিস্থিতি বিষয়ক প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত একদিনে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে সিলেট বিভাগে। সেখানে হামের উপসর্গ নিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগে একজন করে আরও দুই শিশুর প্রাণহানি ঘটে। ফলে মাত্র ২৪ ঘণ্টায় পাঁচ শিশুর মৃত্যু পরিস্থিতির গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত মোট ৭৯৩ জনের মৃত্যুর মধ্যে ৬৯৮ জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। অন্যদিকে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম নিশ্চিত হওয়ার পর মারা গেছেন ৯৫ জন। এই তথ্য থেকে বোঝা যায়, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগীর ক্ষেত্রে উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর খুব দ্রুত জটিলতা তৈরি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার আগেই রোগীর অবস্থার অবনতি ঘটছে, যা দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তাকে আরও স্পষ্ট করে তুলছে।

সংক্রমণের সংখ্যাও বাড়তে থাকায় উদ্বেগ আরও গভীর হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষায় নতুন করে ১৪৭ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে আরও ৯২২ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। এর ফলে ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে পরীক্ষায় নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৫৭৮ জনে। পাশাপাশি মোট ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৭০ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে।

হাসপাতালভিত্তিক পরিস্থিতিও চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে। গত একদিনে নতুন করে ১ হাজার ৬৯ শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ২০ জুলাই পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ১ হাজার ২৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৯৭ হাজার ৫৩২ জন। অর্থাৎ অধিকাংশ রোগী চিকিৎসায় সুস্থ হলেও এখনও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশু বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে, যা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তি হাঁচি, কাশি কিংবা ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শের মাধ্যমে খুব সহজেই অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে দিতে পারেন। বিশেষ করে যেসব শিশু নির্ধারিত সময়ে হাম প্রতিরোধী টিকা পায়নি, অপুষ্টিতে ভুগছে অথবা যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল, তাদের ক্ষেত্রে জটিলতার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। হাম থেকে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, কানের সংক্রমণ এবং মস্তিষ্কে প্রদাহের মতো গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে, যা কখনও প্রাণঘাতীও হয়ে ওঠে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম প্রতিরোধে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির বিকল্প নেই। অভিভাবকদের উচিত শিশুদের জাতীয় টিকাদান সূচি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়েই হাম প্রতিরোধী টিকা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি শিশুর জ্বর, শরীরে লালচে ফুসকুড়ি, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া বা চোখ লাল হওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। দ্রুত রোগ শনাক্ত করা, সময়মতো চিকিৎসা দেওয়া এবং টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করা গেলে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Tags :

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।