খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ই জুলাই ২০২৬, ৫:৩৭ পিএম

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে নিজেদের স্বাভাবিক ছন্দের ধারেকাছেও যেতে পারেনি আর্জেন্টিনা। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের আক্রমণভাগ পুরো ম্যাচজুড়ে ছিল নিষ্প্রভ, যার ফল হিসেবে বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে এক অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডের মালিক হয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল।
ফাইনালের নির্ধারিত ৯০ মিনিটে আর্জেন্টিনা প্রতিপক্ষের গোলমুখে একটি শটও নিতে পারেনি। বিশ্বকাপ ফাইনালের দীর্ঘ ইতিহাসে এমন ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, অতিরিক্ত সময়ের প্রথম ১৫ মিনিট শেষ হওয়া পর্যন্ত, অর্থাৎ ম্যাচের ১০৫ মিনিট পার হলেও আর্জেন্টিনার কোনো খেলোয়াড় স্পেনের গোল লক্ষ্য করে একটি শটও নিতে পারেননি। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে ১০৫ মিনিট পর্যন্ত শটহীন থাকা প্রথম দল হিসেবে অনাকাঙ্ক্ষিত এক রেকর্ড গড়ে আর্জেন্টিনা।
ম্যাচজুড়ে স্পেনের কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্ব ছিল স্পষ্ট। উচ্চমানের প্রেসিং, বলের ওপর নিয়ন্ত্রণ এবং সুসংগঠিত রক্ষণভাগের কারণে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়ে। মাঝমাঠে প্রতিপক্ষের আধিপত্যের কারণে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে যেমন হিমশিম খেয়েছেন, তেমনি শেষ তৃতীয়াংশে গিয়েও কার্যকর আক্রমণ সাজাতে পারেননি।
প্রথমার্ধেও আর্জেন্টিনা ছিল পুরোপুরি শটহীন। পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচের প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা একটি শটও নিতে পারেনি—এমন ঘটনা এবারই প্রথম ঘটল। দ্বিতীয়ার্ধেও সেই চিত্রের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। ম্যাচ যত এগিয়েছে, স্পেনের সংগঠিত রক্ষণ ও চাপের মুখে আর্জেন্টিনার আক্রমণ আরও নিষ্প্রভ হয়ে পড়েছে।
বিশ্বকাপের মতো সর্বোচ্চ মঞ্চে আর্জেন্টিনা সাধারণত আক্রমণাত্মক ফুটবল এবং সৃজনশীলতার জন্য পরিচিত। অতীতের বিভিন্ন ফাইনালেও দলটি প্রতিপক্ষের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু এবারের ফাইনালে সেই পরিচিত আর্জেন্টিনাকে দেখা যায়নি। পুরো ম্যাচে আক্রমণভাগের সমন্বয়, সুযোগ তৈরি এবং শেষ মুহূর্তের সিদ্ধান্ত—সব ক্ষেত্রেই তারা পিছিয়ে ছিল।
অন্যদিকে স্পেন শুরু থেকেই পরিকল্পিত ফুটবল খেলেছে। বলের দখল ধরে রাখা, দ্রুত প্রেসিং এবং প্রতিপক্ষকে আক্রমণের সুযোগ না দেওয়ার কৌশল তারা সফলভাবে বাস্তবায়ন করে। ফলে আর্জেন্টিনা কার্যকর কোনো আক্রমণ গড়ে তোলার সুযোগই পায়নি।
ফাইনালে এমন পরিসংখ্যান শুধু পরাজয়ের হতাশাই নয়, বিশ্বকাপ ইতিহাসে একটি বিরল এবং বিব্রতকর রেকর্ড হিসেবেও থেকে যাবে। বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে আত্মসমালোচনার বড় একটি উপলক্ষ, আর স্পেনের জন্য কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্বের উজ্জ্বল প্রমাণ।
মন্তব্য