ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালে হামের প্রকোপ মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে। হাসপাতালটির হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি মৌসুমের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত হাসপাতালটিতে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারাল মোট ৫৮ জন শিশু।
শনিবার (২৭ জুন) সকালে হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ স্টোর অফিসার ডা. ঝন্টু সরকার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ মারা যাওয়া চার শিশুর বয়সই এক বছরের নিচে। এদের মধ্যে তিন শিশুর বয়স মাত্র ৪ মাস এবং বাকি একজনের বয়স ৮ মাস। চলতি জুনের বিভিন্ন সময়ে তীব্র জ্বর, শরীরে ফুসকুড়ি ও শ্বাসকষ্টসহ হামের নানা উপসর্গ নিয়ে শিশুরা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। পরে শুক্রবার দুপুর থেকে রাতের বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারা মারা যায়। চিকিৎসকদের মতে, কম বয়সী শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় এবং জটিলতা বেশি হওয়ায় তাদের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যাচ্ছে।
বর্তমানে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিশেষায়িত হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডটিতে রোগীর চাপ উপচে পড়ছে। ডা. ঝন্টু সরকার জানান, ওয়ার্ডটিতে এখন ৯৪ জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। শয্যাসংখ্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় চিকিৎসক ও নার্সদের সেবা দিতে বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছে। এর মধ্যেই গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১৬ জন শিশুকে এই ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে।
স্থানীয় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, গরম ও বর্ষার এই সন্ধিক্ষণে শিশুদের মধ্যে ছোঁয়াচে এই রোগের প্রকোপ অনেকটাই বেড়ে গেছে। বিশেষ করে যেসব শিশু নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) থেকে বাদ পড়েছে কিংবা পুষ্টিহীনতায় ভুগছে, তারাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। আক্রান্ত শিশুদের ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া বা তীব্র ডায়রিয়ার মতো জটিলতা দেখা দেওয়ায় মৃত্যুর হার বাড়ছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সাধারণ শয্যা ও জনবল বাড়ানোর পাশাপাশি আক্রান্ত শিশুদের বাড়তি যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে। একই সাথে শিশুদের সুরক্ষায় টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করার এবং যেকোনো উপসর্গ দেখামাত্রই বিলম্ব না করে নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার জন্য অভিভাবকদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।









