খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ই জুলাই ২০২৬, ৪:৩৮ পিএম

দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে স্থিতিশীলতা ধরে রাখার ইঙ্গিত মিলেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দিন শেষে গ্রস হিসাবে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ৪৫৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রকাশিত তথ্যে রিজার্ভের এই পরিমাণের কথা জানানো হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। আমদানি ব্যয় মেটানো, বৈদেশিক ঋণের দায় পরিশোধ, আন্তর্জাতিক লেনদেনের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে প্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপের সক্ষমতার সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।
তবে গ্রস রিজার্ভের পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে তুলনামূলকভাবে বেশি ব্যবহৃত হিসাব পদ্ধতি অনুযায়ী দেশের প্রকৃত ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভের চিত্রও গুরুত্বপূর্ণ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুসারে, একই সময়ে বাংলাদেশের নিট ব্যবহারযোগ্য বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩১ দশমিক ৭৪৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে।
গ্রস রিজার্ভ ও বিপিএম-৬ হিসাবের রিজার্ভের মধ্যে পার্থক্যের কারণ হলো, মোট রিজার্ভের সব অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহারযোগ্য নয়। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে রিজার্ভের হিসাব করার সময় কিছু দায়, তহবিল ও ব্যবহার-সীমাবদ্ধ সম্পদ বাদ দেওয়া হয়। ফলে গ্রস রিজার্ভের তুলনায় বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভ সাধারণত কম থাকে। এই হিসাব দেশের বৈদেশিক মুদ্রার প্রকৃত তারল্য ও তাৎক্ষণিক ব্যবহারযোগ্যতার বিষয়ে তুলনামূলকভাবে স্পষ্ট ধারণা দেয়।
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অর্থনীতির অন্যতম আলোচিত সূচক হয়ে উঠেছে। আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা, রপ্তানি আয়, প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স এবং বৈদেশিক ঋণ ও সহায়তার প্রবাহ—সবকিছুই রিজার্ভের ওপর প্রভাব ফেলে। একই সঙ্গে আমদানি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে বিনিময় হার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিও রিজার্ভের গতিপথ নির্ধারণে ভূমিকা রাখে।
বিশেষ করে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় থেকে আসা বৈদেশিক মুদ্রা দেশের রিজার্ভ শক্তিশালী করার অন্যতম প্রধান উৎস। অন্যদিকে জ্বালানি, শিল্পের কাঁচামাল, খাদ্যপণ্য ও মূলধনি যন্ত্রপাতিসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির জন্য বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হয়। ফলে রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রবাহ বাড়ানো এবং আমদানি ব্যয়ের সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
২৮ জুলাইয়ের সর্বশেষ হিসাবে গ্রস রিজার্ভ ৩৬ দশমিক ৪৫৭ বিলিয়ন ডলার এবং আইএমএফের বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে নিট ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ ৩১ দশমিক ৭৪৯ বিলিয়ন ডলার। অর্থনীতিবিদদের কাছে রিজার্ভের পরিমাণের পাশাপাশি এর প্রবণতাও গুরুত্বপূর্ণ—অর্থাৎ সময়ের সঙ্গে রিজার্ভ বাড়ছে নাকি কমছে, সেই বিষয়টিও অর্থনীতির সামগ্রিক পরিস্থিতি বোঝার ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হয়।
রিজার্ভের বর্তমান অবস্থান তাই দেশের বৈদেশিক লেনদেন সক্ষমতা, আমদানি অর্থায়ন এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ একটি সূচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সামনে রেমিট্যান্স, রপ্তানি আয়, আমদানি ব্যয় এবং বৈদেশিক মুদ্রার বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে রিজার্ভের পরবর্তী গতিপথ।
মন্তব্য