জিলাইভ বাংলা | সত্যের জয় অবধারিত

হামের উপসর্গে আরও সাত শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৭১

দেশে হামের সংক্রমণ ও হামের মতো উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ শিশুদের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৭১ শিশু। তবে এই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত কোনো শিশুর মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়নি।

বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৫১। এর বাইরে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ৯৯ শিশু। ফলে হাম ও হামের উপসর্গজনিত অসুস্থতায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৯৫০ জনে পৌঁছেছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৭৩ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে অসুস্থ হয়েছে ১ হাজার ৯৮ শিশু। দুই শ্রেণির রোগী মিলিয়ে এক দিনে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৭১।

হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও কম নয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, গত এক দিনে অসুস্থ শিশুদের মধ্যে ১ হাজার ১৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে ৯৫৪ শিশু হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে। অর্থাৎ নতুন করে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা এখনও বেশি থাকায় হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবার ওপর চাপ অব্যাহত রয়েছে।

কয়েক মাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর চিত্র

১৫ মার্চ থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৫২ হাজার ৭৩৬। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৮ হাজার ৬৫১ জনের। একই সময়ে হাম অথবা হামের উপসর্গ নিয়ে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৫৭৩ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ লাখ ২৮ হাজার ৭৬৫ জন।

পরিসংখ্যান থেকে দেখা যাচ্ছে, আক্রান্তদের বড় একটি অংশ চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে উঠলেও নতুন রোগী শনাক্ত এবং হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রবণতা এখনও অব্যাহত। বিশেষ করে প্রতিদিন শত শত শিশুর হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনা পরিস্থিতিকে গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়েছে।

হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি, কাশি বা শ্বাসতন্ত্রের নিঃসরণের মাধ্যমে সহজেই অন্যের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। শিশুদের মধ্যে সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হওয়ায় পরিবারের সদস্যদের সতর্ক থাকা জরুরি। জ্বর, কাশি, সর্দি, চোখ লাল হওয়া এবং পরে শরীরে লালচে দানা ওঠা—এসব লক্ষণ দেখা দিলে শিশুকে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শের আওতায় আনা প্রয়োজন।

তবে হামের উপসর্গ থাকলেই যে প্রতিটি রোগী নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্ত, তা নয়। প্রতিবেদনে সন্দেহজনক ও নিশ্চিত রোগীর হিসাব আলাদাভাবে দেওয়ায় বিষয়টি স্পষ্ট। তাই উপসর্গের ভিত্তিতে নিজে থেকে রোগ নির্ধারণ না করে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

একই সঙ্গে গুরুতর অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে হাসপাতালে নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট, অতিরিক্ত দুর্বলতা, পানিশূন্যতা, দীর্ঘস্থায়ী জ্বর বা অস্বাভাবিক নিস্তেজতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

বর্তমান পরিস্থিতিতে রোগী শনাক্তকরণ, পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত রোগ নির্ণয়, আক্রান্ত শিশুদের যথাযথ চিকিৎসা এবং সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ—সবগুলো বিষয় একসঙ্গে গুরুত্ব পাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করলে হামজনিত গুরুতর অসুস্থতা ও মৃত্যুঝুঁকি কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিদিনের পরিসংখ্যান বলছে, কয়েক মাস ধরে দেশে হাম ও হামের উপসর্গজনিত অসুস্থতার চাপ উল্লেখযোগ্য। বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও নতুন আক্রান্ত ও মৃত্যুর ধারাবাহিকতা পুরোপুরি থামেনি। ফলে শিশুদের অসুস্থতার লক্ষণ দ্রুত শনাক্ত করা, সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে পরিবার ও স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

Tags :

বাংলা ডেস্ক । GLive24.com

সর্বশেষ খবর