সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে হুথিদের হামলা বাড়তে থাকায় দেশটির নিরাপত্তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছে বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া ও মালদ্বীপ। একই সঙ্গে হামলার নিন্দা জানিয়ে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঠেকাতে সংযম ও সংলাপের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে দেশ তিনটি। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) পৃথক বিবৃতিতে এসব অবস্থান জানানো হয়।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি এমন কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, যা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাঁর বক্তব্যে সামরিক উত্তেজনা কমিয়ে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জুও সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, ইসলামের পবিত্রতম শহরের নিরাপত্তা ও পবিত্রতার জন্য হুমকি সৃষ্টি করে—এমন যেকোনো কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। পরিস্থিতির আরও অবনতি ঠেকাতে তিনি এসব হামলা অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানান।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও সৌদি আরবের প্রতি সমর্থনের কথা জানানো হয়েছে। বুধবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ফেসবুকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সৌদি আরবের পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা ও মর্যাদা সবসময় সম্পূর্ণভাবে সম্মান ও সুরক্ষিত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের পেছনে দেশটির ধর্মীয় গুরুত্বও বড় একটি বিষয়। মক্কা ও মদিনা মুসলিম বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি পবিত্র নগরী। মক্কায় অবস্থিত পবিত্র কাবা শরিফকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মুসলমানরা হজ ও ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে যান। মদিনায় রয়েছে মসজিদে নববি। ফলে এসব স্থানের নিরাপত্তা নিয়ে যেকোনো হুমকি মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।
ইয়েমেনভিত্তিক হুথি আন্দোলন দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক সংঘাত ও নিরাপত্তা উত্তেজনার সঙ্গে যুক্ত। সৌদি আরবও ইয়েমেনের সংঘাতের কারণে বিভিন্ন সময়ে নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। হুথিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হামলার প্রভাব শুধু সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেই সীমাবদ্ধ থাকে না; এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক স্থিতিশীলতার বিষয়টিও জড়িয়ে রয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটেই বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া ও মালদ্বীপের সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়া এসেছে। তিন দেশের বক্তব্যে সৌদি আরবের নিরাপত্তা ও পবিত্র স্থানগুলোর সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। মালয়েশিয়া আলোচনার মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর ওপর জোর দিয়েছে, মালদ্বীপ হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে এবং বাংলাদেশ সৌদি আরবের পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান নানা সংঘাত ও উত্তেজনার মধ্যে নতুন করে কোনো পরিস্থিতি যাতে আরও বিস্তৃত আঞ্চলিক অস্থিরতার দিকে না যায়, সেই আশঙ্কাও রয়েছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে সংযত অবস্থান এবং উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে। সৌদি আরবকে লক্ষ্য করে হুথিদের হামলা অব্যাহত থাকার সময় তিন দেশের এই প্রতিক্রিয়া সেই বৃহত্তর আঞ্চলিক উদ্বেগকেই সামনে এনেছে।









