সীমান্তে বিজিবির অভিযান: ৬২ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি জব্দ

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান বিরোধী কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি জব্দ করেছে। রোববার (১০ মে, ২০২৬) বিজিবির ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) কর্তৃক পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে এসব অবৈধ পণ্য উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত শাড়িগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ৬২ লাখ ৭০ হাজার টাকা বলে দাপ্তরিকভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে অভিযানের সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা পালিয়ে যাওয়ায় এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।

অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ

ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) থেকে গণমাধ্যমে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয় যে, রোববার ভোরে বিজিবির কাছে গোয়েন্দা সূত্রে একটি গোপন সংবাদ পৌঁছায়। সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, চট্টগ্রাম জেলার জোরারগঞ্জ উপজেলার সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতীয় শাড়ির একটি বড় চালান অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করানো হচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে ফেনী ব্যাটালিয়নের আওতাধীন অলিনগর বিওপির (সীমান্ত পর্যবেক্ষণ চৌকি) একটি বিশেষ টহলদল জোরারগঞ্জ উপজেলার সংশ্লিষ্ট সীমান্ত এলাকায় অবস্থান গ্রহণ করে।

টহলদলটি বর্ণিত এলাকায় চোরাচালান বিরোধী তল্লাশি অভিযান শুরু করলে চোরাকারবারিরা মালামাল ফেলে গহীন জঙ্গলে এবং পার্শ্ববর্তী এলাকায় পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে বিজিবি সদস্যরা পরিত্যক্ত অবস্থায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি জব্দ করেন। প্রাথমিক গণনা ও গুণগত মান যাচাই শেষে জব্দকৃত মালামালের আর্থিক মূল্য ৬২ লাখ ৭০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিজিবির প্রশাসনিক ও আইনগত পদক্ষেপ

অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর জব্দকৃত ভারতীয় শাড়িগুলো প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কাস্টমস বা শুল্ক গুদামে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। বিজিবি সূত্রে জানানো হয়েছে, সীমান্তে অবৈধভাবে পণ্য আনা-নেওয়া বন্ধে তাদের গোয়েন্দা নজরদারি এবং টহল কার্যক্রম পূর্বের তুলনায় আরও জোরদার করা হয়েছে। পলাতক চোরাকারবারিদের শনাক্ত করার জন্য স্থানীয় পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে।

ফেনীস্থ ৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান এই অভিযানের বিষয়ে গণমাধ্যমকে অবহিত করেন। তিনি জানান, দেশের সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ক্ষতিকর প্রভাব সৃষ্টিকারী চোরাচালান বন্ধ করা বিজিবির অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। তিনি আরও বলেন, “সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক পাচার এবং চোরাচালান নির্মূল করতে বিজিবি সর্বদা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে কাজ করছে। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পণ্যের অনুপ্রবেশ রোধে আমাদের প্রতিটি বিওপি এবং বিশেষ টহলদল সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে।”

সীমান্তের নিরাপত্তা ও বর্তমান প্রেক্ষাপট

জোরারগঞ্জ এবং ফেনী সংলগ্ন সীমান্ত এলাকাগুলো ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে মাঝে মাঝেই চোরাচালানের জন্য ব্যবহৃত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। বিশেষ করে বিভিন্ন উৎসব ও সামাজিক অনুষ্ঠানের সময় ভারতীয় শাড়ি এবং অন্যান্য প্রসাধন সামগ্রীর অবৈধ চাহিদা বৃদ্ধি পায়। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে একটি অসাধু চক্র শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধ পথে পণ্য আনার চেষ্টা করে। বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বর্তমান অভিযানে উদ্ধারকৃত শাড়িগুলো মূলত আসন্ন ঈদ বা উৎসবকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাজারে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল চোরাকারবারিদের।

সীমান্তবর্তী জনগণের প্রতি বিজিবির পক্ষ থেকে নিয়মিত আহ্বান জানানো হচ্ছে যাতে তারা চোরাচালান প্রতিরোধে নিরাপত্তা বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেন। পাশাপাশি সীমান্তে যেকোনো ধরনের সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড নজরে এলে তাৎক্ষণিকভাবে নিকটস্থ বিওপি বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে অবহিত করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।