সিলেটে দুই যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজনের মৃত্যু, আহত বারোজন

সিলেটের ওসমানী নগর উপজেলার ঢাকা–সিলেট মহাসড়কে শনিবার সকাল ৭টার দিকে দু’টি যাত্রীবাহি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত এবং অন্তত দ্বাদশ জন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনা স্থানটি ছিল দয়ামীর মাদ্রাসা এলাকা।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত অনুযায়ী, ঢাকামুখী এনা ট্রান্সপোর্টের (নিবন্ধন: ঢাকা মেট্রো-বি-12-3560) বাসটি সিলেটমুখী শ্যামলী ট্রান্সপোর্টের (নিবন্ধন: ঢাকা মেট্রো-বি-24286) বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, উভয় চালক সম্ভবত নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যান, যার ফলে সরাসরি এবং শক্তিশালী ধাক্কা লাগে।

স্থানীয়রা, তাজপুর ফায়ার সার্ভিস ও ওসমানী নগর থানা পুলিশের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে। আহতদের দ্রুত সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসকরা জানান, বেশ কয়েকজন গুরুতর অবস্থায় রয়েছেন এবং আইসিইউ তে চিকিৎসা চলমান।

নিহত ব্যক্তিদের তথ্য:

নামবয়সঠিকানা
মোঃ মোজিবুর রহমান55ড্যাশাই হাওলাদার, নরিয়া উপজেলা, শরীয়তপুর
বকুল রাভিদাস26কপনখালপার গ্রাম, ওসমানী নগর, সিলেট

আহতদের তথ্য (প্রাথমিক):

নামবয়সজেলা/উপজেলামন্তব্য
মুশাহিদ35জালালাবাদ, সিলেটরবি মিয়ার ছেলে
আলমিন34জামালগঞ্জ, সুনামগঞ্জ
ফারুক38বেলাব, নরসিংদী
মেহেদি হাসানবেলাব, নরসিংদী
অজানা8বিভিন্ন এলাকা

ওসমানী নগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুর্শেদুল আলম ভূঁইয়া জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং আহতদের চিকিৎসা চলমান। তিনি আরও জানান, মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলিতে অতিরিক্ত সতর্কতা ও কড়াকড়ি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হবে।

স্থানীয় প্রশাসন ও জনসাধারণ দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং রাস্তার নিরাপত্তা জোরদারের জন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দুর্ঘটনার মূল কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে খারাপ সড়ক অবস্থা ও অতিরিক্ত গতি।

ট্রাফিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাস পরিচালনার নিয়মাবলীর কঠোর পালন, ট্রাফিক চেকপোস্টের সম্প্রসারণ এবং দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন করা অত্যন্ত জরুরি। এই দুর্ঘটনা একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে সামনে এসেছে, যা যাত্রী ও অপারেটর উভয়ের জন্য ভবিষ্যতে মৃত্যু এড়াতে সক্রিয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করছে।