,

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়রানির অভিযোগ মোনামীর

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া মোনামী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে তাকে হয়রানি ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আক্রমণের অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী, যাদের মধ্যে একজন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সমর্থক বা কর্মী বলে তিনি উল্লেখ করেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছাত্রীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। ওই তালিকায় তাঁর নামও যুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজের যাচাইকৃত ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এসব অভিযোগ করেন মোনামী। দীর্ঘ ওই পোস্টে তিনি জানান, সেদিন সারাদিন বাসা পরিবর্তন ও নতুন বাসা গোছানোর কাজে ব্যস্ত ছিলেন। ক্লান্ত অবস্থায় ঘুমাতে যাওয়ার আগে ফেসবুকে ঢুকে তিনি বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পারেন।

মোনামীর ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের সহপাঠী ছাত্রীদের নিয়ে নানা ধরনের আপত্তিকর কথা লিখেছেন। সেখানে তাঁকেও হয়রানির তালিকায় রাখা হয়েছে। বিষয়টি জানার পর তিনি অভিযোগ করার উদ্দেশ্যে একজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা ব্যক্তিদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেছেন বলেও জানান।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে তাঁর পক্ষ থেকে যেসব ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব, সেগুলো নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে রাত হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে সব পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

পোস্টে মোনামী আরও অভিযোগ করেন, তাঁকে বারবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্যাগ করা হচ্ছে। পাশাপাশি টিপ্পনী ও নানা মন্তব্যের মাধ্যমে তাঁকে বিব্রত করার চেষ্টা চলছে। তাঁর দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাই জড়িত।

মোনামী তাঁর পোস্টে আরও লিখেছেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণেও তাঁকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলে তিনি মনে করছেন। অতীতে তিনি ছাত্রশিবির সম্পর্কে ইতিবাচক মন্তব্য করেছিলেন—এ বিষয়টিও তাঁর বিরুদ্ধে হয়রানির ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁর।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাঁকে কখনো সরাসরি, আবার কখনো পরোক্ষভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, কোনো নারী কোন মতাদর্শের, কোন পরিচয়ের কিংবা কোন অবস্থানে রয়েছেন—তা বিবেচনা না করেই তাঁকে হয়রানি করার জন্য একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে আক্রমণ চালানো হচ্ছে।

নিজের শিক্ষকতার প্রসঙ্গও পোস্টে তুলে ধরেছেন মোনামী। তিনি আক্ষেপ করে লিখেছেন, যাদের তিনি পড়ান, তাদের মধ্য থেকেই এমন আচরণের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এ কারণে চাকরি নিয়ে হতাশার কথাও প্রকাশ করেছেন তিনি। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে অন্য পেশায় যাওয়ার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন।

তবে তাঁর অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া গেছে কি না, তা ওই পোস্টে উল্লেখ নেই। ফলে অভিযোগগুলোর স্বাধীন সত্যতা যাচাইও এই প্রতিবেদনের আওতায় সম্ভব হয়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত আক্রমণ, অপমানজনক মন্তব্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাউকে বারবার ট্যাগ করার মতো কর্মকাণ্ড নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী কিংবা অন্য কোনো ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে অনলাইনে হয়রানির অভিযোগ উঠলে বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক বা আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকে।

মোনামী তাঁর পোস্টের শেষাংশে এমন পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধরার জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করার কথাও জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে অনলাইনে হয়রানির পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ নিয়েও হতাশা ও ক্ষোভের বিষয়টি উঠে এসেছে।

Tags :

সামিউর রহমান রাতুল | সাব-এডিটর । জিলাইভ বাংলা

https://glive24.com/

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।