,

তিন শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসাশিক্ষক গ্রেপ্তার

দিনাজপুরের বিরামপুরে তিন শিশুশিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে এক মাদ্রাসাশিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দারা ওই শিক্ষককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার পর তাঁর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়। পরে তাঁকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারকের কাছে তিনি অভিযোগের বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আদালতের নির্দেশে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম আলী হাসান (২৫)। তিনি দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। প্রায় এক বছর ধরে বিরামপুর উপজেলার একটি হাফেজিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। শুক্রবার ভোরে ওই মাদ্রাসায় তিন শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয় এবং তাঁরা শিক্ষককে আটক করে পুলিশে খবর দেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তিন শিশুর একজনের বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ আলী হাসানকে গ্রেপ্তার দেখায়। শুক্রবার বিকেলে তাঁকে দিনাজপুর আদালতে হাজির করা হয়। জ্যেষ্ঠ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জয়নুল আবেদীনের আদালতে তিনি তিন শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এরপর তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিরামপুর থানার উপপরিদর্শক সোহেল রানা জানান, আদালতে আলী হাসান তিন শিশুকে ধর্ষণের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত চলছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য, ভুক্তভোগীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য প্রমাণ যাচাই করে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদের সময় ধারণ করা একটি ভিডিওতে ওই শিক্ষককে আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীর ওপর যৌন নির্যাতনের কথা বলতে শোনা যায়। ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন সময়ে ওই মাদ্রাসার সাতজন শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করেছেন এবং এসব ঘটনার ভিডিও ধারণ করে রাখতেন। একই ভিডিওতে তিনি আরও দাবি করেন, বিভিন্ন মাদ্রাসার দুই থেকে আড়াই শ শিক্ষার্থীর সঙ্গেও একই ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছেন। তবে এসব অতিরিক্ত অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হয়নি। ফলে তাঁর জবানবন্দিতে উঠে আসা প্রতিটি দাবিকে তদন্তের ফলাফলের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা জরুরি।

মাদ্রাসাটির পরিচালনা কমিটির এক সদস্য জানান, প্রতিষ্ঠানটি ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুতে একজন শিক্ষক দিয়েই মাদ্রাসার কার্যক্রম পরিচালিত হতো। প্রতিষ্ঠার দুই বছর পর ওই শিক্ষক চাকরি ছেড়ে চলে গেলে আলী হাসানকে নিয়োগ দেওয়া হয়। স্থানীয় দানশীল ব্যক্তি ও পরিচালনা কমিটির সদস্যদের আর্থিক সহায়তায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম চলছিল।

ঘটনার পর মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকেও বিষয়টিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে আবাসিক ও ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশুদের সঙ্গে শিক্ষক বা দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের একান্তে থাকার সুযোগ, তদারকির ব্যবস্থা এবং অভিযোগ জানানোর নিরাপদ পরিবেশ কতটা কার্যকর—এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আসা প্রয়োজন।

শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। ভুক্তভোগী শিশুদের শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের পরিচয় গোপন রাখা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ হওয়ার পর মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করা হবে। এর আগে ভিডিওতে দেওয়া বক্তব্যসহ অন্যান্য অভিযোগের সত্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

Tags :

সৌরভ বিশ্বাস | উপ-সম্পাদক । জিলাইভ বাংলা

https://bn.glive24.com/

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

জিলাইভ২৪ বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য অনলাইন নিউজ পোর্টাল; যা রাজনীতি, খেলাধুলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সংবাদের সর্বশেষ আপডেট প্রকাশ করে।

© ২০২৬ GLive24। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।