শিশু নিখোঁজের ঘটনাকে সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারের বিষয়টিকে ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির। তাঁর দাবি, শিশু নিখোঁজের ঘটনা নতুন নয়; অতীতেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। তবে বর্তমানে এসব ঘটনাকে ফলাও করে প্রচারের প্রবণতা তৈরি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
শনিবার সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স স্কুলে বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় আইজিপি এসব মন্তব্য করেন।
আলী হোসেন ফকির বলেন, শিশু নিখোঁজের ঘটনা আগেও ঘটেছে। তবে এখন এসব ঘটনা বিশেষভাবে প্রচার করা হচ্ছে, যার পেছনে ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ শিশুদের মধ্যে ৮৭ শতাংশেরই সন্ধান পাওয়া গেছে। তবে তিনি এই পরিসংখ্যানের সময়কাল বা মোট নিখোঁজের সংখ্যা সম্পর্কে বিস্তারিত জানাননি।
শিশু নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বাভাবিকভাবেই পরিবার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। বিশেষ করে কোনো শিশু দীর্ঘ সময় নিখোঁজ থাকলে পরিবারের সদস্যদের উৎকণ্ঠা দ্রুত বাড়তে থাকে। এ ধরনের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনও অনেক সময় অনুসন্ধানে যুক্ত হয়। তাই নিখোঁজের প্রতিটি ঘটনায় তথ্য যাচাই এবং দায়িত্বশীলভাবে তা প্রকাশের গুরুত্ব রয়েছে।
পুলিশের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা নিয়েও কথা বলেন আইজিপি। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশ পুলিশের এক শতাংশেরও কম কর্মকর্তা অসৎ এবং তাঁদের কেউ কেউ সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে জড়িত। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এসব কর্মকর্তাকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
একই সঙ্গে কিছু সাংবাদিক ও কনটেন্ট নির্মাতার বিরুদ্ধেও অভিযোগ তোলেন আইজিপি। তাঁর দাবি, তাঁদের কেউ কেউ সরকারের বিরুদ্ধে মনগড়া ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে দিচ্ছেন। তবে এসব অভিযোগের নির্দিষ্ট উদাহরণ বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয় তিনি প্রকাশ করেননি।
এর আগে রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে আয়োজিত একটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও বক্তব্য দেন আইজিপি। সেখানে তিনি মাদক ও ছিনতাইয়ের বিরুদ্ধে পুলিশের চলমান অভিযানের কথা তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, অভিযান চালিয়ে অনেক অপরাধীকে একাধিকবার আইনের আওতায় আনা হয়েছে।
তবে মাদক ব্যবসায়ী ও ছিনতাইকারীদের দীর্ঘ সময় কারাগারে রাখা যাচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এর পেছনে আইনের ফাঁকফোকরকে দায়ী করেন আইজিপি। তাঁর বক্তব্যে অপরাধ দমনের পাশাপাশি আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সীমাবদ্ধতার বিষয়টিও উঠে আসে।
বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচিতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষা ও পরিচ্ছন্নতার গুরুত্বও তুলে ধরা হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বের সঙ্গে সামাজিক সচেতনতা তৈরির কার্যক্রমকে যুক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।









