সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছে পুলিশ। দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় শেরেবাংলা নগর থানায় করা আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামসুজ্জোহা সরকার দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে এ আবেদনের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকছুদাকে আদালতে নেওয়া হয়। তাঁদের আদালতে পাঠানোর আগে মামলার তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়ে রিমান্ডের আবেদন করা হয়। রিমান্ড মঞ্জুর হবে কি না, তা আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
এর আগে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ফ্ল্যাটটি গাজী নজরুল ইসলামের বলে পুলিশ ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মরদেহ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
মরিয়মের বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ রোববার গভীর রাতে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলাটি করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগম এবং মরিয়মের মামা ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ পরে গাজী নজরুল ও মাকছুদাকে গ্রেপ্তার করে। মামলার অপর আসামি ওবায়দুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা যায়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে।
মামলার এজাহারে মরিয়মের বাবা তাঁর মেয়েকে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ করেছেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এসেছে। তাঁর দাবি, এসব ঘটনার ধারাবাহিকতায় মরিয়ম আত্মহত্যায় প্ররোচিত হয়ে থাকতে পারেন। এসব অভিযোগ এখন তদন্তের বিষয়; আদালতে প্রমাণিত হওয়ার আগে এগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।
মরিয়মের মরদেহ উদ্ধারের পর তাঁর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছিল। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হবে।
এদিকে মামলাটির তদন্তে মরিয়মের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের সম্পর্ক ও তাঁদের পারিবারিক পরিস্থিতির বিষয়ও সামনে এসেছে। চলতি বছরের জুনে তাঁদের বিয়ে হয়েছিল বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে আরও এসেছে, মরিয়ম ও গাজী নজরুলের প্রথম স্ত্রী মাকছুদা একই বাসায় থাকতেন।
এর আগে জুলাই মাসে গাজী নজরুল ও মরিয়মকে ঘিরে ব্যক্তিগত কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা হয়। ওই ঘটনার পর গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে আলাদা একটি মামলাও হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়ে তিনি সেই মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পান বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বর্তমান মামলার তদন্তে পুলিশ এখন মরিয়মের মৃত্যুর আগে কী ঘটেছিল, তাঁর সঙ্গে অভিযুক্তদের সম্পর্ক ও যোগাযোগ কেমন ছিল এবং মৃত্যুর ঘটনায় কারও প্ররোচনা বা অন্য কোনো ভূমিকা ছিল কি না—এসব বিষয় যাচাই করছে। রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর হলে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে তদন্তকারীরা এসব বিষয়ে আরও তথ্য নেওয়ার চেষ্টা করবেন।
তবে এখন পর্যন্ত আদালত রিমান্ডের আবেদন নিয়ে কী সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, সেটিই পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একই সঙ্গে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, মামলার এজাহারে উল্লেখিত অভিযোগ এবং তদন্তে পাওয়া অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতেই মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার আইনগত দায় নির্ধারণের প্রক্রিয়া এগোবে।









