খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ই নভেম্বর ২০২৫, ৩:১৫ এএম

কিংবদন্তি গণসংগীতকার সলিল চৌধুরীর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদ শহীদ মিনারে আয়োজন করেছে ‘সতত সলিল’। বুধবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে আলোচনা, গান, কবিতা ও নৃত্যের মাধ্যমে সলিলের অবদান স্মরণ করা হয়। উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাবিবুল আলম সভাপতিত্ব করেন। আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক সায়েম রানা এবং উদীচীর সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার।
আলোচকরা বলেছেন, সলিল চৌধুরীর সংগীত শুধু শিল্প নয়, এটি ছিল আন্দোলনের শক্তি। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, মুক্তিসংগ্রাম, শ্রমিক ও ছাত্র আন্দোলন—সব ক্ষেত্রেই তার গান মানুষের মনোবল জাগিয়েছে। তিনি কবিতা, মিছিলের স্লোগান ও লোকসঙ্গীতকে এমনভাবে একত্র করেছেন, যা সরাসরি আন্দোলনের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করেছে। বক্তারা আরও বলেন, ‘গণসংগীত সবসময়ই প্রগতিশীল আন্দোলনের সাথে জড়িয়ে আছে। যদিও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সবসময় এটি স্বীকৃতি দেয়নি, তবু প্রতিটি সংগ্রামে এটি মানুষের সাহস ও আশা জোগিয়েছে।’
সংগীত পরিবেশনার অংশ হিসেবে উদীচী সংগীত বিভাগ ও কোরাস বৃন্দগান পরিবেশন করে, তানভীর আলম সজীব ও মনসুর আহমেদ একক গান করেন। নৃত্য পরিবেশন করে স্পন্দন ও আদৃতা আনোয়ার প্রকৃতি। আবৃত্তিতে অংশ নেন উদীচী আবৃত্তি বিভাগ; একক আবৃত্তি করেন শাহেদ নেওয়াজ।
সলিল চৌধুরীর জন্ম ১৯২৫ সালের ১৯ নভেম্বর। মাত্র ২২ বছর বয়সে তিনি রচনা করেন ‘গাঁয়ের বধূ’। পশ্চিমা সুর ও অসমিয়া লোকগানের মিশ্রণে তিনি গণসংগীতকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চলচ্চিত্র ‘দো বিঘা জমিন’-এর সংগীত পরিচালনার পাশাপাশি তিনি ১৫০টির বেশি চলচ্চিত্রে সংগীত পরিচালনা করেছেন। আজ, শহীদ মিনারে তাঁর গান মানবমুক্তির বার্তা বহন করছে, যা আজও প্রাসঙ্গিক।
মন্তব্য