টাঙ্গাইল জেলার সখীপুর উপজেলায় দুই দিনের ব্যবধানে কুকুরের কামড়ে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটে গত রোববার ও সোমবার সখীপুর পৌরসভা এবং কালিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায়। আহতদের মধ্যে নারী, পুরুষ ও শিশুরা রয়েছে। এদের মধ্যে একজনকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকার মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল দুপুর আনুমানিক দুইটার দিকে কালিয়া ইউনিয়নের দেবলচালা গ্রামে প্রথমে একটি কুকুর আবদুর রশিদসহ কয়েকজনকে কামড়ায়। এরপর কুকুরটি এলাকা থেকে বের হয়ে সখীপুর পৌর শহরের দিকে প্রবেশ করে এবং আন্ধি থেকে উত্তরা মোড় পর্যন্ত পথ ধরে অন্তত ২০ জনকে কামড় দেয় বলে জানা যায়। পরে রাতের দিকে কুকুরটি কাহারতা গ্রাম হয়ে কচুয়া এলাকায় চলে যায়।
পরদিন সোমবার সকালে একই কুকুরটি আবার কালিয়া, ঘোনারচালা ও দামিয়া এলাকায় একাধিক নারী ও শিশুকে কামড় দেয়। দুই দিনে আক্রান্তদের মধ্যে অন্তত ৯ জন শিশু এবং ১০ জন নারী রয়েছেন। আক্রান্তদের অধিকাংশকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, অন্যরা বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, মোট আহতদের মধ্যে অন্তত ৪৫ জন এখানে চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। আহত আবদুর রশিদকে অবস্থার অবনতি হওয়ায় ঢাকার মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের উপসহকারী কমিউনিটি চিকিৎসা কর্মকর্তা জানান, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা কালিয়া ঘোনারচালা গ্রামের এক বাসিন্দা জানান, সকালে নাতনিকে স্কুলে দিয়ে বাড়ি ফেরার পথে হঠাৎ কুকুরটি তাকে কামড়ায়। তিনি চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসে, কিন্তু ততক্ষণে কুকুরটি আরও কয়েকজনকে আক্রমণ করে।
একই এলাকার আরেকজন নারী জানান, তিনি নাতনিকে কোলে নিয়ে ছিলেন, তখন কুকুরটি লাফিয়ে এসে শিশুটিকে কামড় দেয়। শিশুটিকে বাঁচাতে গেলে তাকেও কামড়ানো হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা কার্যক্রমে দেখা যায়, একসঙ্গে অনেক রোগী আসায় স্বাস্থ্যকর্মীরা চাপের মধ্যে চিকিৎসা দিচ্ছেন। আক্রান্তদের ক্ষতস্থান সাবানপানি দিয়ে পরিষ্কার করে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ইনজেকশন দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, অধিকাংশ রোগীর শরীরের একাধিক স্থানে গভীর ক্ষত রয়েছে।
নিচে আক্রান্ত ও চিকিৎসা পরিস্থিতির সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো—
| বিষয় | সংখ্যা/তথ্য |
|---|---|
| মোট আহত | অন্তত ৫০ জন |
| উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা | ৪৫ জন |
| নারী আহত | অন্তত ১০ জন |
| শিশু আহত | অন্তত ৯ জন |
| ঢাকায় স্থানান্তরিত রোগী | ১ জন (আবদুর রশিদ) |
| ঘটনা স্থল | সখীপুর পৌরসভা ও কালিয়া ইউনিয়ন |
দুই দিনের এই ধারাবাহিক ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে এবং আক্রান্তদের চিকিৎসা কার্যক্রম বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চলমান রয়েছে।